খবরে প্রতিবাদ

খবরে প্রতিবাদ

Sunday, 5 April 2026 - 09:50 PM
রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬ - ০৯:৫০ অপরাহ্ণ

Bashpukur Dacoit News : বাঁশপুকুরে গভীর রাতে সশস্ত্র ডাকাতি, নগদ ও স্বর্ণালংকার লুঠে আতঙ্কে গোটা এলাকা

Bashpukur Dacoit News
1 minute read

Bashpukur Dacoit News : বাঁশপুকুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় গভীর রাতে দুঃসাহসিক সশস্ত্র ডাকাতির ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মরণআলী এলাকায় এক গৃহস্থ বাড়িতে হানা দিয়ে দুষ্কৃতীরা নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুঠ করে পালিয়ে যায়। ঘটনায় এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা নিয়ে উঠছে গুরুতর প্রশ্ন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার গভীর রাতে মরণআলী এলাকার বাসিন্দা মনির হোসেন (পিতা: শাহাজাহান মিয়া)-এর বাড়িতে পাঁচ থেকে ছয় জনের একটি সশস্ত্র ডাকাত দল হানা দেয়। রাত আনুমানিক ২টা নাগাদ দুষ্কৃতীরা বাড়ির দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। পরিবারের সদস্যরা কিছু বুঝে ওঠার আগেই আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে তাদের চুপ করিয়ে দেয় ডাকাতরা।

অভিযোগ, দুষ্কৃতীরা প্রথমেই গৃহকর্তাকে কাবু করে ফেলে। চার থেকে পাঁচজন মিলে তাকে জোরপূর্বক বেঁধে ফেলে এবং মুখ চেপে ধরে রাখে যাতে তিনি কোনো রকম সাহায্য চাইতে না পারেন। এরপর বাড়ির আলমারির চাবি ছিনিয়ে নিয়ে শুরু হয় লুঠতরাজ।

ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, আলমারিতে রাখা কয়েক লক্ষ টাকার স্বর্ণালংকার এবং কয়েক হাজার টাকা নগদ লুঠ করে নিয়ে যায় দুষ্কৃতীরা। শুধু তাই নয়, যাওয়ার সময় বাড়ির মোবাইল ফোনগুলিও নিয়ে যায় যাতে পুলিশ বা প্রতিবেশীদের সঙ্গে যোগাযোগ করা না যায়। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে বাড়ির ভিতরে তাণ্ডব চালায় ডাকাতরা।

ভুক্তভোগী মনির হোসেন জানান, “রাত প্রায় ২টার সময় দরজা ভেঙে পাঁচ-ছয়জন ঢুকে পড়ে। অস্ত্র দেখিয়ে আমাদের চুপ করিয়ে দেয়। আমাকে বেঁধে ফেলে, তারপর ঘরে যা ছিল—স্বর্ণ, টাকা—সব নিয়ে যায়। পরে আমার বাবার ঘরেও ঢুকে সেখান থেকেও সব লুঠ করে নিয়ে যায়।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা নতুন বাড়ি করেছি প্রায় চার বছর হলো। বাগানের রাবার বিক্রি করে কিছু টাকা জমিয়েছিলাম। সেই টাকা ঘরে রেখেছিলাম মিস্ত্রি ও দোকানের পাওনা মেটানোর জন্য। এমন ঘটনা আগে এখানে হয়নি, তাই এতটা সতর্কও ছিলাম না।”

এই ঘটনার পর থেকেই বাঁশপুকুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, এলাকায় পর্যাপ্ত পুলিশি টহল না থাকায় দুষ্কৃতীরা এমন দুঃসাহস দেখাতে পারছে। জনবহুল এলাকায় কীভাবে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে ডাকাতরা ঢুকে পড়ল এবং নির্বিঘ্নে পালিয়ে গেল, তা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন গ্রামবাসীরা।

তাদের প্রশ্ন, “নিজের বাড়িতেও যদি নিরাপত্তা না থাকে, তাহলে সাধারণ মানুষ কোথায় নিরাপদ?” দ্রুত পুলিশি ব্যবস্থা জোরদার করা এবং দোষীদের গ্রেফতারের দাবি তুলেছেন এলাকাবাসী।

এদিকে, এই ঘটনার প্রেক্ষিতে রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে তরজা। একদিকে সাম্প্রতিক সহিংসতার ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে পারস্পরিক দোষারোপ শুরু হয়েছে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষ আইনশৃঙ্খলার অবনতির আশঙ্কা প্রকাশ করছেন।

এক রাজনৈতিক নেতার বক্তব্যে উঠে এসেছে, “এই ধরনের সন্ত্রাস শুধুমাত্র ভয়ের পরিবেশ তৈরি করার জন্য করা হচ্ছে। অতীতেও এমন ঘটনা ঘটেছে, কিন্তু এইভাবে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করা যাবে না।”

তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত বিস্তারিত কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানা গেলেও, এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা হয়েছে কিনা তা স্পষ্ট নয়।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত চলছে এবং দুষ্কৃতীদের চিহ্নিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এলাকার নিরাপত্তা বাড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের কথাও ভাবা হচ্ছে।

ঘটনার জেরে গোটা এলাকায় এখন আতঙ্ক ও উদ্বেগের পরিবেশ বিরাজ করছে। সাধারণ মানুষ দ্রুত দোষীদের গ্রেফতার এবং কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

For All Latest Updates

ভিডিও