Bangladesh India Issue : বুলেট ট্রেন সংক্রান্ত বিতর্কের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার ভারত–বাংলাদেশ সীমান্তে পণ্য আদান–প্রদান ঘিরে নতুন করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। রবিবার মনু সীমান্ত এলাকার মনু ল্যান্ড কাস্টমস থেকে এমনই খবর সামনে এসেছে। অভিযোগ, বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর সাম্প্রতিক হামলার প্রতিবাদে চলা কর্মসূচির সুযোগ নিয়ে কিছু উশৃঙ্খল যুবক জোরপূর্বক ভারত–বাংলাদেশের মধ্যে পণ্য আদান–প্রদান বন্ধ করার চেষ্টা চালায়।
ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত প্রশাসন তৎপর হয় এবং আমদানি–রপ্তানি ব্যবসায়ী সংগঠনের হস্তক্ষেপে সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়। পরিস্থিতি বর্তমানে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে।
ঊনকোটি জেলা আমদানি–রপ্তানি ব্যবসায়ী কমিটির সভাপতি গৌরাচাঁদ অধিকারী স্পষ্টভাবে জানান, মনু ল্যান্ড কাস্টমস দিয়ে আমদানি–রপ্তানি সম্পূর্ণ স্বাভাবিকভাবেই চলছে। তিনি বলেন, “২৫ ডিসেম্বর ক্রিসমাস উপলক্ষে একদিন কাজ বন্ধ ছিল, তার বাইরে কোনো দিনই বাণিজ্য বন্ধ হয়নি।” তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য কেন্দ্রীয় সরকারের নীতি ও দ্বিপাক্ষিক চুক্তির মাধ্যমে পরিচালিত হয় এবং কোনো ব্যক্তি, সংগঠন বা রাজনৈতিক দল ইচ্ছামতো তা বন্ধ করতে পারে না।
তিনি আরও জানান, বাণিজ্য বন্ধ করতে হলে দিল্লি থেকে সরকারি নোটিফিকেশন জারি হতে হয়, যা কাস্টমস মারফত সংশ্লিষ্টদের কাছে পৌঁছায়। এর বাইরে জোর করে গেট বন্ধ করা বা রাস্তা অবরোধ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। গৌরাচাঁদ অধিকারীর অভিযোগ, ধর্মীয় অনুভূতিকে সামনে রেখে একটি পরিকল্পিত চক্রান্তের মাধ্যমে বাণিজ্য ব্যাহত করার চেষ্টা করা হয়েছে, যার ফলে শতাধিক শ্রমিক ও কয়েকশো ব্যবসায়ী পরিবারের জীবিকা হুমকির মুখে পড়তে পারত।
বর্তমানে মনু ল্যান্ড কাস্টমস দিয়ে ভারত থেকে আদা, কমলা ইত্যাদি পণ্য বাংলাদেশে যাচ্ছে এবং বাংলাদেশ থেকে মাছসহ বিভিন্ন পণ্য ভারতে আসছে। ব্যবসায়ীদের দাবি, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যকে ধর্ম বা রাজনীতির সঙ্গে মেলানো অনুচিত। সীমান্তে শান্তি বজায় রেখে স্বাভাবিক বাণিজ্য চালু রাখার পক্ষেই মত দিয়েছেন তাঁরা।



