Anjel Chakma News : ত্রিপুরা রাজ্যের ঊনকোটি জেলার পেচারতল বিধানসভা কেন্দ্রের মাছমারা এলাকার বাসিন্দা যুবক এঞ্জেল চাকমার নির্মম হত্যাকাণ্ডে গোটা রাজ্যজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। উত্তরাখণ্ডের দেরাদুনে এমবিএ কোর্সের শেষ সেমিস্টারের ছাত্র এঞ্জেল চাকমাকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় গভীরভাবে মর্মাহত রাজ্য সরকার।
ঘটনার পর মঙ্গলবার, ৩০ ডিসেম্বর মৃত এঞ্জেল চাকমার বাড়িতে যান রাজ্যের দুই মন্ত্রী সহ প্রশাসনের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করে সমবেদনা জানান এবং সরকারের পক্ষ থেকে আর্থিক সহায়তার চেক তুলে দেওয়া হয়।
এদিন উত্তরাখণ্ড সরকারের পক্ষ থেকে চার লক্ষ বারো হাজার পাঁচশো টাকার একটি চেক এবং ত্রিপুরা রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে পাঁচ লক্ষ টাকার একটি চেক নিহত এঞ্জেল চাকমার মা গৌরি মিতা চাকমার হাতে তুলে দেন মন্ত্রী টিংকু রায়। পাশাপাশি উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রীর পাঠানো শোকবার্তাও পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
চেক প্রদানকালে মন্ত্রী টিংকু রায়ের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রী স্বান্তনা চাকমা, ঊনকোটি জেলার জেলাশাসক ডক্টর তমাল মজুমদার, কুমারঘাটের মহকুমাশাসক এন এস চাকমা সহ অন্যান্য আধিকারিকরা।
উল্লেখ্য, নিহত এঞ্জেল চাকমার বাবা তরুন প্রসাদ চাকমা একজন বিএসএফ জওয়ান, বর্তমানে তিনি মণিপুরে কর্মরত। এঞ্জেলের ছোট ভাইও দেরাদুনে পড়াশোনা করত।
চেক গ্রহণের সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন এঞ্জেলের মা গৌরি মিতা চাকমা। তিনি এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সকল অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
এ বিষয়ে মন্ত্রী টিংকু রায় বলেন, এটি অত্যন্ত দুঃখজনক ও হৃদয়বিদারক ঘটনা। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডক্টর মানিক সাহা শুরু থেকেই বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখছেন এবং একাধিকবার উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছেন। ইতিমধ্যেই কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং বাকি দোষীদেরও গ্রেফতারের দাবি জানানো হয়েছে।
মন্ত্রী আরও জানান, মুখ্যমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন যে তিনি ভবিষ্যতে নিজে পেচারতল মাছমারা এলাকায় এসে পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন এবং এই দুঃখের সময়ে রাজ্য সরকার সবসময় নিহতের পরিবারের পাশে থাকবে।



