Amarpur Rangamati News : “এক ত্রিপুরা, শ্রেষ্ঠ ত্রিপুরা”— এই শ্লোগানে মুখর সরকার যেখানে সুশাসনের চিত্র তুলে ধরছে, সেখানে বাস্তবে ভিন্ন ছবি ধরা পড়ল অমরপুর মহকুমার রাঙ্গামাটি খেয়াঘাট এলাকায়। গত ৩-৪ দিন ধরে পানীয় জলের তীব্র সঙ্কটে ভুগতে থাকা গ্রামবাসীর ধৈর্য শেষমেশ ফেটে পড়ল বুধবার সকালে। ভোর থেকেই গ্রামের অসংখ্য মহিলারা একত্রিত হয়ে প্রধান সড়ক অবরোধে বসে পড়েন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বারবার প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করার পরও কার্যকর কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। পঞ্চায়েত প্রধান ও উপপ্রধান পুরো বিষয়টি জেনেও নীরব ভূমিকা নিয়েছেন। তবে সবচেয়ে বিস্ফোরক মুহূর্ত তৈরি হয় উপপ্রধানের মন্তব্যে। তিনি নাকি এলাকাবাসীকে বলেছেন— “গোমতী নদীর জল খেয়ে জীবনধারণ করুন।” এই বক্তব্যে ক্ষোভ চরমে পৌঁছায়।
অবরোধকারীদের বক্তব্য, পরিষ্কার পানীয় জল না থাকায় গ্রামবাসীর জীবনযাত্রা ভীষণভাবে ব্যাহত হচ্ছে। শিশু ও বৃদ্ধদের মধ্যে রোগব্যাধি ছড়ানোর আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে। গ্রামের মহিলারা বলেন, তারা প্রতিদিন বহু দূর থেকে জল আনতে বাধ্য হচ্ছেন, যা বাস্তবিকই অসহনীয়।
ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় পুলিশ বাহিনী ও প্রশাসনের একটি প্রতিনিধি দল। দীর্ঘ আলোচনা ও আশ্বাসের পর মহিলারা অবরোধ প্রত্যাহার করেন। তবে তারা স্পষ্ট জানিয়ে দেন— যদি দ্রুত সমস্যার সমাধান না হয়, তবে আরও বৃহত্তর আন্দোলনে তারা রাস্তায় নামবেন।
অন্যদিকে, বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো প্রশাসনের ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে সরকারকে কটাক্ষ করেছে। তাদের দাবি, সুশাসনের নামে যে প্রচার চলছে, তার আসল চেহারা এ ধরনের ঘটনাই প্রকাশ করছে।
অমরপুর মহকুমার এই ঘটনার পর সাধারণ মানুষের মনে একটাই প্রশ্ন— সরকারের প্রচার কি শুধুই কাগুজে বুলি? নাকি সত্যিই গ্রামীণ জীবনে উন্নয়নের ছোঁয়া পৌঁছাবে? আপাতত রাঙ্গামাটির মানুষ আশ্বাসের অপেক্ষায়, তবে তাদের ক্ষোভ স্পষ্ট করে দিল— পানীয় জলের মতো মৌলিক অধিকার পাওয়ার জন্যও আন্দোলন করতে হচ্ছে আজকের ত্রিপুরায়।