Agartala Task Force : আগরতলা কে স্মার্ট করে তুলতে পুরো নিগম টাস্ক ফোরস কে কাজে লাগিয়ে যেদিকে পারছে সেদিকেই উচ্ছেদ অভিযান চালাচ্ছে। একবার দুবার নয়। বারবার, ফুটপাত দখল মুক্ত করার কথা বলে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী দের পেটে লাথি মারার চেষ্টা করছে সরকার। বরাবরই এই অভিযোগ করে আসছিলেন বিরোধীরা। কিন্তু পরিস্থিতির গম্ভীরতা বর্তমানে এতটাই, যে সাধারন মানুষ ও সেই একই সুরে সুর মেলাচ্ছেন।
পুরো নিগমের এই অভিযান দেখে হাটে বাজারে, অলিতে গলিতে, চায়ের দোকানে সর্বত্রই নিন্দা সুচক আলোচনা হচ্ছে। পুরো নিগমের এই অভিযান এর মূল উদ্দেশ্য কি ছিল ? উদ্দেশ্য ছিল ফুটপাত গুলো কে অবৈধ দখল থেকে মুক্ত করা, ফুটপাত কে জনসাধারনের যাতায়াত এর জন্যে উন্মুক্ত রাখা। এছারা যানজট নিরসনেও এই উচ্ছেদ অভিযান এর ভূমিকা ছিল। কিন্তু , যানজট এবং জনসাধারন এর জন্যে ফুটপাত উন্মুক্ত করতে গিয়ে সেই ফুটপাত কে আঁকড়ে ধরে যারা দীর্ঘকাল যাবত জীবন জিবিকা নির্বাহ করে আসছিলেন তাদের কে কেন এভাবে বিপদের মুখে ঠেলে দেওয়া হল ?
বুধবার রাত থেকে শুরু হওয়া অভিযানে যাদের স্টল ভাঙ্গা হয়েছে , দোকান উচ্ছেদ হয়েছে তাদের মধ্যে অধিকাংশের কাছেই ভেণ্ডার লাইসেন্স ছিল । সেই লাইসেন্স তারা দেখিয়েছেন। তবে পুরো নিগম কিংবা রাজ্য সরকার কেন তাদের বিকল্প ব্যবস্থা করে দিলেন না ? এর আগেও একাধিক বার পুরো নিগম এধরনের অভিযান চালিয়ে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের রুজি রুটি তে প্রায় তালা ঝুলিয়ে দিয়েছিলেন। তখন ও আশ্বস্ত করেছিলেন বিকল্প ব্যবস্থার, কিন্তু আজো তা পুরন হয়নি। যে কারনে বারবার এই ব্যবসায়ী রা নিরুপায় হয়ে তাদের পুরনো আস্তানা কে আঁকড়ে ধরতে চাইছেন।
যানজট নিরসন এর প্রসঙ্গে কিছুদিন পূর্বে মেয়র দীপক মজুমদার প্রেস মিট করে নিজেই জানিয়েছেন যে আগরতলা শহরে জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং চাহিদা পুরনে স্কুল কলেজ হাসপাতাল নির্মাণ হয়েছে। ফলে স্বাভাবিক ভাবেই শহরের মাঝে অল্প আয়তনে বেশি লোড পরছে। তার উপর রাস্তা সরু এবং তাতে জানবাহনের সংখ্যা অত্যাধিক। এক্ষেত্রে একটা প্রশ্ন হচ্ছে এএমসি এলাকায় অস্বাভাবিক যানজট থাকা সত্বেও পরিবহন দপ্তর কেন রোডে নতুন যাত্রীবাহী গাড়ি কিংবা ই রিক্সা এবং টোটো র জন্যে বারতি পারমিট দিচ্ছে ?
প্রয়োজন এর তুলনায় অধিক পারমিট দিচ্ছে সরকার।
জানবাহন এর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় বাড়ছে যানজট।
কিন্তু সেই যানজট কে প্রসমিত করতে উচ্ছেদ করা হচ্ছে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ? এটা কোন ধরনের জনদরদি এবং উন্নয়ন মুখী সরকারের চিন্তা ভাবনা ?
তার উপর আবার স্মার্ট সিটি প্রকল্পাধিন কভার ড্রেন এর কাজের ফলে দিকে দিকে যানজট আরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। কিন্তু এই সব কিছুর খেসারত কেন দিতে হচ্ছে ফুটপাতে স্বল্প কিছু খাবার দাবার বিক্রি করে রোজগার করা নিম্ন মধ্যবিত্ত মানুষ গুলো কে ?
একজন মহিলা ব্যবসায়ী আজ বলছিলেন, বাম আমলে ও উনার দোকান ছিল। কিন্তু এমন ঘটনা কোনদিন ঘটেনি। এই একই উক্তি এখন রাজ্যের লক্ষ লক্ষ মানুষের। পূর্বতন সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ এর পাহার থাকা সত্বেও আজ খেটে খাওয়া বহু মানুষ সেই পুরনো আমল এর কথা স্মরন করছেন। বর্তমান সরকার যেখানে বরাবরই নিজেদের শ্রেষ্ঠ বলে দাবী করেন , কারজকলাপে কি আদৌ নিজেদের শ্রেষ্ঠতা প্রমান করতে পেরেছেন ?



