খবরে প্রতিবাদ

খবরে প্রতিবাদ

Saturday, 24 January 2026 - 09:21 PM
শনিবার, ২৪ জানুয়ারি ২০২৬ - ০৯:২১ অপরাহ্ণ

Agartala Bajaj Showroom : বাজাজের বিরুদ্ধে অটো শ্রমিকদের বিক্ষোভ! পূর্ব থানায় এফআইআর দায়ের

Agartala Bajaj Showroom
1 minute read

Agartala Bajaj Showroom : ত্রিপুরা সরকারের পরিবহন দপ্তরের নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগে বাজাজ কোম্পানির বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভে ফেটে পড়লেন অটো শ্রমিকরা। বৃহস্পতিবার পূর্ব থানায় দ্বারস্থ হয়ে বাজাজ শোরুমের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেন শতাধিক অটো শ্রমিক। অভিযোগ, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী পারমিট ছাড়া অটো রিক্সা বিক্রি করা সম্পূর্ণ বেআইনি হলেও, বাজাজ কোম্পানি দীর্ঘদিন ধরে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে বিনা পারমিটে অটো বিক্রি করে আসছে।

শ্রমিকদের দাবি, এএমসি এলাকায় সীমিত সংখ্যক পারমিট দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। অথচ সেই নিয়মকে কার্যত বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে গত কয়েক মাসে প্রায় ৫০০-র বেশি পারমিটবিহীন অটো বিক্রি করা হয়েছে। পারমিট দেওয়ার নাম করে কারও কাছ থেকে ২০ হাজার, কারও কাছ থেকে ২৫ হাজার, আবার কারও কাছ থেকে ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। এই সমস্ত লেনদেনের নথি ও তালিকা তাঁদের কাছে রয়েছে বলেও জানান শ্রমিক নেতারা।

পারমিট না থাকায় অটো চালকেরা রাস্তায় গাড়ি নামাতে পারছেন না। রাস্তায় বেরোলেই ট্রাফিক পুলিশের হাতে ধরা পড়ে জরিমানা গুনতে হচ্ছে তাঁদের। অন্যদিকে প্রতি মাসে ফাইনান্স কোম্পানিকে দিতে হচ্ছে গাড়ির ইএমআই। ফলে উপার্জন বন্ধ হলেও ঋণের বোঝা বহন করতে বাধ্য হচ্ছেন শ্রমিকরা। সব মিলিয়ে চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন অটো চালকেরা।

এদিন অটো শ্রমিকদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন মজদুর মনিটরিং সেলের রাজ্য সভাপতি বিপ্লব কর। তিনি বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে বাজাজের শোরুমগুলো শ্রমিকদের সঙ্গে প্রতারণা করছে। পারমিট দেখানোর পরই অটো দেওয়ার নিয়ম থাকলেও, তারা তা মানছে না। কয়েক মাস ধরে শত শত অটো পারমিট ছাড়া দেওয়া হয়েছে এবং শ্রমিকদের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে। আজ অটো চালকেরা ইএমআই দেবে কোথা থেকে? তারা তো গাড়িই চালাতে পারছে না।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, শুধু অটো নয়, টিও ও টমটমের ক্ষেত্রেও একই ধরনের অনিয়ম চলছে। বিশেষ করে জনজাতি সম্প্রদায়ের শ্রমিকদের কাছ থেকে বেশি টাকা আদায় করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। “এইভাবে শ্রমিকদের অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করা আমরা কোনওভাবেই মেনে নেবো না,” বলেন বিপ্লব কর।

এদিন থানায় এফআইআর দায়ের করার পর ওসি শ্রমিকদের আশ্বাস দিয়েছেন যে বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রুত তদন্ত শুরু করা হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শ্রমিক সংগঠনের পক্ষ থেকে দাবি জানানো হয়েছে, অবিলম্বে অভিযুক্ত শোরুম বন্ধ করে নেওয়া হোক এবং শ্রমিকদের কাছ থেকে নেওয়া টাকার পূর্ণ হিসাব প্রকাশ করা হোক।

অটো শ্রমিকদের বক্তব্য, প্রশাসনের উপর তাঁদের আস্থা ফিরিয়ে আনতেই এই পদক্ষেপ। তাঁদের আশা, এবার প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং বঞ্চিত শ্রমিকরা সুবিচার পাবেন।

পারমিট ছাড়া অটো বিক্রি করে শ্রমিকদের আর্থিক অনিশ্চয়তার মধ্যে ঠেলে দেওয়ার অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর। এখন দেখার বিষয়, প্রশাসন কত দ্রুত ও কতটা কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করে। সঠিক তদন্ত ও ন্যায়বিচার হলে তবেই শ্রমিকদের হারানো আস্থা ফিরবে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম রোখা সম্ভব হবে।

For All Latest Updates

ভিডিও