ADC Narendra Reang : আসন্ন এডিসি নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে জোরদার প্রচার শুরু করেছে বামফ্রন্ট । এই নির্বাচনী প্রচারের অংশ হিসেবে বীরচন্দ্র ও কলসী আসনের বামফ্রন্ট মনোনীত প্রার্থী নরেন্দ্র রিয়াং উত্তর হিচাছড়া ও কলসী ভিলেজের একাধিক পাড়ায় ঘরে ঘরে গিয়ে জনসংযোগ কর্মসূচি চালান।
রবিবার সকাল থেকে শুরু হওয়া এই প্রচার অভিযানে প্রার্থীর সঙ্গে ছিলেন সিপিআইএম এর স্থানীয় নেতৃত্ব ও দলীয় কর্মীরা। মোট সাতটি পাড়ায় ঘুরে সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন নরেন্দ্র রিয়াং। তিনি প্রতিটি বাড়িতে গিয়ে বাসিন্দাদের অভাব-অভিযোগ শোনেন এবং তাদের সমস্যার সমাধানে আশ্বাস দেন।
প্রচারের সময় প্রার্থী এলাকার উন্নয়ন, কর্মসংস্থান এবং মৌলিক পরিষেবার উন্নতির বিষয়ে বামফ্রন্টের পরিকল্পনা তুলে ধরেন। গ্রামবাসীদের একটি বড় অংশ অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরেই পানীয় জল, রাস্তা, স্বাস্থ্য পরিষেবা ও অন্যান্য মৌলিক সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়নি। এই পরিস্থিতিতে নরেন্দ্র রিয়াং তাঁদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন এবং জানান, নির্বাচিত হলে এই সমস্যাগুলিকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সমাধান করা হবে।
এদিনের প্রচার কর্মসূচিতে স্থানীয়দের উৎসাহ ছিল চোখে পড়ার মতো। বিশেষ করে যুব সমাজ ও প্রবীণদের সক্রিয় অংশগ্রহণে জনসংযোগ কর্মসূচি আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। প্রার্থীর বক্তব্য মনোযোগ সহকারে শোনেন গ্রামবাসীরা এবং অনেকেই নিজেদের মতামত ও চাহিদা সরাসরি তাঁর সামনে তুলে ধরেন।
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে নরেন্দ্র রিয়াং বলেন, “মানুষের কাছ থেকে আমরা খুব ভালো সাড়া পাচ্ছি। এলাকার মানুষ পরিবর্তন চাইছেন এবং উন্নয়নের পক্ষে নিজেদের মত প্রকাশ করছেন। আমরা অতীতেও মানুষের পাশে ছিলাম, বর্তমানে আছি এবং ভবিষ্যতেও থাকব।” পাশাপাশি তিনি সকল ভোটারদের উদ্দেশ্যে শান্তিপূর্ণভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী করতে হলে অবাধ ও নিরপেক্ষ ভোট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই সকলকে ভয়ভীতি উপেক্ষা করে ভোট কেন্দ্রে গিয়ে নিজের মত প্রকাশ করার অনুরোধ জানান তিনি।
রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, এভাবে ঘরে ঘরে গিয়ে সরাসরি জনসংযোগ গড়ে তোলার ফলে বামফ্রন্ট প্রার্থীর প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা বাড়ছে। আসন্ন এডিসি নির্বাচনে এই প্রচার কৌশল ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলেই মত তাঁদের।
সব মিলিয়ে, নির্বাচন যতই এগিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে প্রচারের গতি এবং রাজনৈতিক উত্তাপ। এখন দেখার বিষয়, এই জনসংযোগ কতটা প্রভাব ফেলে নির্বাচনের ফলাফলে।



