CM Belonia Visit : দীর্ঘ দুই বছর পর উন্নয়নের বার্তা ও একগুচ্ছ প্রকল্পের উপহার নিয়ে দক্ষিণ ত্রিপুরার সদর শহর বিলোনিয়া সফর করলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা। শুক্রবার তাঁর এই সফরকে কেন্দ্র করে বিলোনিয়াজুড়ে ছিল উৎসবের আমেজ। জেলার পরিকাঠামো উন্নয়ন, বন্যা প্রতিরোধ, পানীয় জল, ক্রীড়া, শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং নগর সৌন্দর্যায়নকে গুরুত্ব দিয়ে একাধিক প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন মুখ্যমন্ত্রী।
এদিন মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রী শুক্লাচরণ নোয়াতিয়া, বিধায়ক প্রমোদ রিয়াং, মাইলাফ্রু মগ ও স্বপ্না মজুমদার। এছাড়াও ছিলেন রাজ্যের মুখ্যসচিব জে কে সিনহা, সচিব মিলিন্দ রামটেকে, কিরণ গিত্যে, দক্ষিণ জেলার জেলা সভাধিপতি দীপক দত্ত, জেলা শাসক ও সমাহর্তা মোহাম্মদ সাজাদ পি, বিলোনিয়া পুর পরিষদের চেয়ারম্যান নিখিল চন্দ্র গোপ-সহ প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের আধিকারিকরা।
সফরের শুরুতেই মুখ্যমন্ত্রী পৌঁছান বি সি নগর ব্লকের অধীন উত্তর বিলোনিয়া অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র সংলগ্ন মুহুরী নদীর বাঁধ এলাকায়। ২০২৪ সালের ভয়াবহ বন্যার স্মৃতি মাথায় রেখে নদীবাঁধ সংস্কার ও শক্তিশালীকরণের কাজ কতদূর এগিয়েছে, কী পরিমাণ কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং বাকি কাজের অগ্রগতি কী—তা সরেজমিনে খতিয়ে দেখেন তিনি।
বন্যার হাত থেকে বিলোনিয়া শহরকে সুরক্ষিত রাখতে মুহুরী নদীর প্রায় ৩.০৫ কিলোমিটার দীর্ঘ বাঁধের উচ্চতা বৃদ্ধি ও প্রশস্তকরণের উদ্যোগকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর এই পরিদর্শনকে প্রশাসনিক মহলে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
এরপর বি সি নগর ব্লকের অধীন রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের বাস্তবায়নের চিত্র তুলে ধরে আয়োজিত প্রদর্শনী পরিদর্শন করেন মুখ্যমন্ত্রী। জেলা শাসক মোহাম্মদ সাজাদ পি বিভিন্ন প্রকল্পের অগ্রগতি ও বাস্তবায়নের বিষয়গুলি তাঁর সামনে বিস্তারিতভাবে উপস্থাপন করেন।
বাঁধ পরিদর্শন ও উন্নয়নমূলক প্রদর্শনী ঘুরে দেখার পর বেলা সাড়ে বারোটা নাগাদ মুখ্যমন্ত্রী পৌঁছান বিলোনিয়ার শচীন দেববর্মন অডিটোরিয়ামে। সেখান থেকে ভার্চুয়াল মাধ্যমে দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন তিনি।
প্রকল্পগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—
• মুহুরী নদীর প্রায় ৩.০৫ কিলোমিটার বাঁধের উচ্চতা বৃদ্ধি ও প্রশস্তকরণ।
• সেচ ব্যবস্থার উন্নয়নে একাধিক প্রকল্প।
• বিলোনিয়া শহরে আধুনিক পানীয় জল সরবরাহ ব্যবস্থা।
• বিলোনিয়া বিদ্যাপীঠের জুডো হলের সংস্কার এবং আন্তর্জাতিক স্তরে স্বর্ণপদকজয়ী অস্মিতা দে-র নামে হলটি উৎসর্গ।
• বিলোনিয়া পুলিশ লাইন সংলগ্ন এলাকায় ভাস্কর্য ও ফোয়ারা নির্মাণ।
• দ্বিতল মেডিসিন স্টোর নির্মাণ।
• সারাসীমায় খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ ইনকিউবেশন সেন্টার স্থাপন।
• বিলোনিয়া থানার নতুন ভবন নির্মাণ।
• বিদ্যাপীঠ উচ্চ বিদ্যালয়ের সঙ্গে ৫০ আসনবিশিষ্ট উপজাতি ছাত্রাবাস নির্মাণ।
• বিকেআই স্কুলের দক্ষিণ ও পশ্চিম দিকে সৌন্দর্যায়ন, ভেন্ডিং জোন, পার্কিং এবং বসার ব্যবস্থা।
• বিকেআই সিন্থেটিক খেলার মাঠে খোলা মঞ্চ ও ড্রেসিং রুম নির্মাণ।
• সিএমইউ-র আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন।
এদিনের কর্মসূচিতে বিশেষ নজর কেড়েছে বিলোনিয়া বিদ্যাপীঠের জুডো হলের সংস্কার এবং আন্তর্জাতিক স্তরে স্বর্ণপদকজয়ী অস্মিতা দে-র নামে হলটি উৎসর্গ করার উদ্যোগ। স্থানীয় ক্রীড়াবিদদের উৎসাহিত করার পাশাপাশি আগামী দিনে ক্রীড়াক্ষেত্রে নতুন প্রজন্মকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে বলে মনে করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিকাঠামো উন্নয়ন, উপজাতি ছাত্রাবাস নির্মাণ, স্বাস্থ্য পরিষেবার জন্য মেডিসিন স্টোর এবং খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্পের প্রসারে ইনকিউবেশন সেন্টার স্থাপনের মতো উদ্যোগ জেলার সামগ্রিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করবে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা বলেন, ত্রিপুরা রাজ্যের সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে সরকার নিরন্তর কাজ করে চলেছে। আগামী দিনে রাজ্যের প্রতিটি জেলাকে কীভাবে আরও উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায়, সেই লক্ষ্যে সরকার নতুন নতুন চিন্তাভাবনা ও পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, সরকারের প্রধান কাজ হচ্ছে জনগণকে পরিষেবা প্রদান করা। সরকার সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই কাজ করছে। বিলোনিয়ায় গৃহীত প্রকল্পগুলি বাস্তবায়িত হলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান আরও উন্নত হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন মুখ্যমন্ত্রী।
মুহুরী নদীর বাঁধের নিরাপত্তা থেকে শুরু করে পানীয় জল, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ক্রীড়া এবং শহরের সৌন্দর্যায়ন—বিভিন্ন ক্ষেত্রকে এক ছাতার নিচে এনে বিলোনিয়ার উন্নয়নের রূপরেখা তুলে ধরল মুখ্যমন্ত্রীর এদিনের সফর। বিশেষ করে ২০২৪ সালের বন্যার পর নদীবাঁধের সংস্কার ও শক্তিশালীকরণের বিষয়টি স্থানীয় মানুষের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
দীর্ঘ দুই বছর পর মুখ্যমন্ত্রীর বিলোনিয়া সফর এবং একগুচ্ছ প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনকে ঘিরে দক্ষিণ ত্রিপুরার মানুষের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। এবার ঘোষিত প্রকল্পগুলির দ্রুত ও সময়মতো বাস্তবায়নের দিকেই তাকিয়ে রয়েছেন জেলাবাসী।






