Fatikroy Diwali Preparation : আলোর উৎসব দীপাবলি মানেই মাটির প্রদীপের চিরাচরিত ঐতিহ্য। কিন্তু আধুনিকতার ছোঁয়ায় ক্রমশ কমছে মাটির প্রদীপের কদর। বৈদ্যুতিন আলোকসজ্জা ও বাহারি মোমবাতির দাপটে বাজারে চাহিদা কমলেও ঐতিহ্য ধরে রাখতে এখনও লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন ঊনকোটি জেলার ফটিকরায়ের পালবাজারের মৃৎশিল্পীরা।
দীপাবলিকে সামনে রেখে বর্তমানে পালবাজারের বিভিন্ন বাড়ি ও কারখানায় চলছে প্রদীপ তৈরির ব্যস্ততা। কাঁচা মাটিকে নিপুণ হাতের ছোঁয়ায় প্রদীপের রূপ দিতে দিনরাত এক করছেন শিল্পীরা। লক্ষ্মীপুজোর পর থেকেই শুরু হয়েছে জোরকদমে কাজ। শিল্পীদের পাশাপাশি পরিবারের সদস্যরাও সমানভাবে সহযোগিতা করছেন। কেউ কাঁচা প্রদীপ রোদে শুকোচ্ছেন, আবার কেউ সেগুলি পোড়ানোর কাজে ব্যস্ত।
এলাকার মৃৎশিল্পী স্বপন রুদ্রপাল জানান, এবছর তিনি প্রায় চার থেকে পাঁচ হাজার মাটির প্রদীপ তৈরি করেছেন। প্রতিদিন নিজের হাতে চার থেকে পাঁচশো প্রদীপ তৈরি করেন তিনি। বাবার কাছ থেকে এই পেশায় হাতেখড়ি। দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে মৃৎশিল্পই তাঁর জীবিকার প্রধান অবলম্বন। তবে আগের তুলনায় প্রদীপের চাহিদা অনেকটাই কমেছে। উপযুক্ত দাম না পাওয়া, উৎপাদন খরচ এবং নতুন প্রজন্মের এই পেশার প্রতি অনীহা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।
অন্যদিকে, প্রায় ৪৫ বছর ধরে মৃৎশিল্পের সঙ্গে যুক্ত পবিত্র রুদ্রপালও দীপাবলির জন্য প্রদীপসহ বিভিন্ন মাটির সামগ্রী তৈরি করছেন। তাঁর অভিযোগ, সরকারি উদ্যোগে বিদ্যুৎচালিত মেশিন দেওয়া হলেও উপযুক্ত প্রশিক্ষণের অভাবে সেটি ব্যবহার করা যাচ্ছে না। যে মেশিনে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছিল, সরবরাহ করা হয়েছে অন্য মডেলের মেশিন।
সব মিলিয়ে বাজারের প্রতিকূলতা ও সরকারি সহায়তার সীমাবদ্ধতার মধ্যেও ঐতিহ্য বাঁচিয়ে রাখতে লড়ছেন ফটিকরায়ের মৃৎশিল্পীরা। প্রশ্ন উঠছে, আধুনিকতার এই প্রতিযোগিতায় কতদিন টিকে থাকবে মাটির প্রদীপের চিরচেনা ঐতিহ্য?







