CM DR Manik Saha : শিশু বিহার স্কুলের মতো গুণমান বজায় রেখে গড়ে তোলা হবে ক্ষেত্রমোহন স্কুল। ইংলিশ মিডিয়াম সহ স্মার্ট ক্লাশের ব্যবস্থা করা হবে এই স্কুলে। ধাপে ধাপে এটিকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত উন্নীত করা হবে। শনিবার আগরতলার শান্তি পাড়াস্থিত ক্ষেত্রমোহন স্কুল পরিদর্শন করে একথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী ডা. মানিক সাহা। সংবাদ মাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাতে মুখ্যমন্ত্রী ডা. সাহা বলেন, ক্ষেত্রমোহন স্কুল একটি বহু পুরনো স্কুল। বহু বছর আগে এখানে স্কুল ছিল, ক্লাশ ছিল, শিক্ষকরাও ছিলেন। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে এটা বন্ধ হয়ে যায়।
আমি মুখ্যমন্ত্রী পদে দায়িত্ব গ্রহণের পর স্থির করলাম, এই স্কুলটিকে নয়া কলেবরে ঠিকঠাক করে নতুনভাবে ভালো মানের স্কুল হিসেবে তৈরি করার। এই স্কুল থেকে শিক্ষালাভ করে অনেকে ডাক্তারও হয়েছেন। তাই তাদেরও ইচ্ছে ছিল স্কুলটি আবার নতুনভাবে পথচলা শুরু করুক। সেই ইচ্ছেকে মান্যতা দিয়ে রাজ্য সরকার বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, শহরের মাঝখানে এমন একটা স্কুল ছিল। অথচ সেসময় কেউ দেখভাল করেনি। বরং একটা পুনর্বাসন কেন্দ্রের মতো ছিল এটা। দীর্ঘ ৩৫ বছরে যারা তৎকালীন শাসকদলের ক্যাডার ছিল, সেই হগবপন্থী নেতাদের এখানে পুনর্বাসন দেওয়া হতো।
কোন ক্লাশ করা হতো না। ছাত্রছাত্রীদের প্রতিও তাদের কোন দায়িত্ববোধ প্রত্যক্ষ হয়নি। তাই এখন সুযোগ আসায় স্কুলটির উন্নয়নে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আগেই এই স্কুলের শিলান্যাস করা হয়েছে। জি প্লাস ফোর ভবন তৈরি হবে। বরাদ্দ নিয়েও সিদ্ধান্ত হয়েছে। এই স্কুলটি প্রথমে সিনিয়র বেসিক অর্থাৎ অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত হবে। ১৬টি ক্লাশরুম হবে। প্রথমে শিফটে ক্লাশ হবে। পরবর্তী সময়ে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত করা হবে। এটিকে ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল করার ইচ্ছে রয়েছে সরকারের। আমি বলেছি এটা যাতে শিশু বিহার স্কুলের মতো গুণমান সম্পন্ন হয়।
এবং যাতে একটা প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব রেখে এটি আরো উন্নত মানের হয় তার জন্য বলা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী আরো বলেন, আজ এখানে পরিদর্শন করতে এসেছি। আমার কাছে খবর ছিল যে স্কুলের নির্মাণ কাজ ধীর গতিতে চলছে। আসার পর নির্মাণ সংস্থার পক্ষ থেকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে যে আগামী জানুয়ারিতে হস্তান্তর করা হবে। আমি তাদের বলেছি যাতে দ্রুতগতিতে নির্মাণ কাজ শেষ করা হয়। সামনের অংশ থেকে হয়তো কিছু জায়গা অধিগ্রহণ করতে হবে। যাতে একটা দেখার মতো স্কুল হয়, সেই লক্ষ্যে কাজ করা হচ্ছে।
আমরা চাইছি এই এলাকায় যাতে একটা ভালো মানের স্কুল গড়ে তোলা যায়। আশপাশের স্কুলগুলি থেকে যাতে পড়াশুনার চাপ কিছুটা কমিয়ে এখানে নিয়ে আসা যায় সেই চেষ্টা করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে স্থানীয় ছেলেমেয়েরা পড়াশুনার সুযোগ পেয়ে যাবে। এই স্কুলে আসা যাওয়ার রাস্তার বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনে জমি অধিগ্রহণের কথাও বলা হয়েছে।মুখ্যমন্ত্রী জানান, নির্মীয়মান এই স্কুলে দুটি লিফট বসানো হবে। একটি লিফটে ১৫ জন উপর নিচে যেতে পারবে ও আসতে পারবে। বেঞ্চ থেকে শুরু করে প্রতিটি বিষয়াদি যাতে স্মার্ট ক্লাশের মতো করা যায় সেই বিষয়ে কথা হয়েছে। অথচ আগের সরকারের জমানায় কীভাবে চলেছে শিক্ষা ব্যবস্থা। ইচ্ছে থাকলে উপায় বের হবেই।
আর ভিলেজ নির্বাচন শেষ হতেই এখন আরবান এলাকার উন্নয়ন নিয়ে বিরোধীরা উল্টাপাল্টা বলতে শুরু করেছেন। বিরোধী নেতা বলছেন আরবানে নাকি কোন উন্নয়নই হয়নি। তাই নিজে এসে দেখে যান উন্নয়নের চিত্র। নির্বাচন সামনে থাকায় এখন থেকেই তারা মানুষকে বিভ্রান্ত করার গল্প শুরু করেছেন। কারণ এটাই তাদের অভ্যেস। পুর পরিষদের তাদের প্রাক্তন চেয়ারম্যানই বলছেন ‘বিজেপি সরকার আসার পর যখন যেটা চাওয়া হচ্ছে সেটা দেওয়া হচ্ছে। রাস্তাঘাট সুন্দর হচ্ছে’। পরিদর্শন কালে এদিন মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন আগরতলা পুর নিগমের সেন্ট্রাল জোনের চেয়ারম্যান রত্না দত্ত, পূর্ত দপ্তরের সচিব কিরণ গিত্যে, শিক্ষা অধিকর্তা ড. সমিত রায় চৌধুরী সহ অন্যান্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরের শীর্ষ আধিকারিকগণ।






