Pradyut To Retire From Politics : নির্বাচনের দামামা বাজলেই ফের সামনে আসেন প্রদ্যুত কিশোর দেববর্মা। কখনও অধিকার আদায়ের ডাক, কখনও নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত, আবার কখনও তিপ্রাসাদের আবেগকে উসকে দেওয়া একের পর এক প্রতিশ্রুতি। কিন্তু নির্বাচন শেষ হলেই সেই তেজ কোথায় হারিয়ে যায়—এখন সেটাই বড় প্রশ্ন।
গ্রেটার তিপ্রাল্যান্ড থেকে তিপ্রাসা অ্যাকর্ড—প্রতিশ্রুতির তালিকা কম নয়। কিন্তু বছরের পর বছর পেরিয়ে গেলেও তিপ্রাসাদের সামনে বাস্তব সাফল্যের হিসাব কতটা? পাহাড়ের মানুষের অধিকার, কর্মসংস্থান, যোগাযোগ ব্যবস্থা কিংবা দৈনন্দিন সমস্যার সমাধানে দৃশ্যমান পরিবর্তন কোথায়?
এডিসি নির্বাচনেও দেখা গিয়েছিল একই ছবি। বিজেপির সঙ্গে সরকারে থেকেও ভোটের আগে বিজেপির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছিলেন প্রদ্যুত। তখন মনে হয়েছিল, এবার হয়তো সত্যিই বড় কোনও রাজনৈতিক লড়াইয়ের পথে হাঁটছেন তিনি। কিন্তু নির্বাচন শেষ হওয়ার পরই পাল্টে গেল রাজনৈতিক আবহ!
যাঁদের বিরুদ্ধে ভোটের আগে তীব্র আক্রমণ, ভোটের পর তাঁদের সঙ্গেই সৌজন্য সাক্ষাৎ, সরকারি অনুষ্ঠানে উপস্থিতি—এমনকি তাজ প্যালেসের ভূমিপুজোতেও তাঁর উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন—ভোটের সময়ের বিরোধিতা কি শুধুই ভোটের অঙ্ক, আর ভোটের পরেই কি সব হিসাব মিটে যায়?
এর মধ্যেই সামনে ভিসি নির্বাচন। আর ঠিক এই সময়েই সোশ্যাল মিডিয়ায় লাইভে এসে প্রদ্যুতের নতুন ঘোষণা—তিনি নাকি রাজনীতি থেকে সরে যেতে চান। বয়স বাড়ছে, তাই বিদায়ের আগে তিপ্রাসাদের জন্য কিছু করে যেতে চান বলেই দাবি তাঁর। কিন্তু এই ঘোষণাই এখন নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
বিদায়ের আগে কী দেওয়ার কথা বলছেন তিনি? আর এত বছর ধরে রাজনীতিতে থেকে তিপ্রাসাদের হাতে কী তুলে দিয়েছেন? কংগ্রেসের রাজনীতি থেকে শুরু করে নিজের আঞ্চলিক দল গঠন—দীর্ঘ রাজনৈতিক যাত্রা। সেই যাত্রার প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে তিপ্রাসাদের আবেগকে রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত করার চেষ্টা হয়েছে। কিন্তু আবেগকে ভোটে পরিণত করা আর সেই ভোটকে মানুষের অধিকার আদায়ে কাজে লাগানো—দুটো যে এক নয়, সেটাই এখন আলোচনার কেন্দ্রে।
পাহাড়ের মানুষও কি এবার সেই পার্থক্যটা বুঝতে শুরু করেছেন?
শুধু রাজপরিবারের উত্তরাধিকার, আবেগঘন বক্তব্য কিংবা নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি দিয়ে কি আর তিপ্রাসাদের মন জয় করা সম্ভব? নাকি এবার হিসাব চাইবে পাহাড়? প্রতিশ্রুতির নয়, কাজের হিসাব। আবেগের নয়, বাস্তব ফলাফলের হিসাব। প্রদ্যুতের ‘রাজনীতি ছাড়ার’ বার্তা সত্যিই বিদায়ের সিদ্ধান্ত, নাকি ভিসি নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক মঞ্চে নতুন আবেগের চাল—তা সময়ই বলবে।
তবে একটা বিষয় স্পষ্ট—পাহাড়ের ভোটার এবার শুধু কথা শুনতে নয়, কথার ফল দেখতে চাইছেন।






