Jampui jala Adhaar Card : ত্রিপুরার জম্পুইজলা ব্লকের পাথালিয়া ঘাট ভিলেজের অন্তর্গত লুনথাইছড়া এলাকার বাসিন্দা অহিদ মিয়ার জীবন আজ চরম দুর্ভোগে জর্জরিত। দীর্ঘদিনের পরিশ্রমী এই শ্রমিক এখন একদিকে শারীরিক অক্ষমতা, অন্যদিকে প্রশাসনিক জটিলতার মধ্যে পড়ে অসহায় অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। রবিবার দুপুরে সংবাদমাধ্যমের সামনে নিজের দুঃখ-কষ্টের কথা তুলে ধরে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর কাছে সাহায্যের আবেদন জানান তিনি।
জানা যায়, গত প্রায় ১৩ বছর ধরে গাড়ির হেল্পার (কন্ডাক্টর) হিসেবে কাজ করতেন অহিদ মিয়া। তবে চার মাস আগে একটি মারাত্মক সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হওয়ার পর থেকে তার কর্মক্ষমতা প্রায় সম্পূর্ণভাবে নষ্ট হয়ে যায়। বর্তমানে তিনি লাঠিতে ভর দিয়ে চলাফেরা করেন এবং উপার্জনের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তার পরিবার চরম আর্থিক সংকটে পড়েছে। সংসার চালাতে এখন বাধ্য হয়ে তার স্ত্রী অন্যের বাড়িতে কাজ করছেন।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই আরও বড় সমস্যায় পড়েছেন আধার কার্ড সংক্রান্ত জটিলতায়। অহিদ মিয়ার অভিযোগ, নিজের এবং সন্তানের আধার কার্ড তৈরি বা সংশোধনের জন্য তিনি একাধিকবার ডুম্বুর ব্লক অফিস ও স্থানীয় পঞ্চায়েত দফতরে গিয়েছেন। কিন্তু কোনো সুরাহা মেলেনি। বরং আধার কার্ডের কাজ করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে এক ব্যক্তি তার কাছ থেকে প্রায় ৫,০০০ টাকারও বেশি নিয়ে প্রতারণা করেছে বলে অভিযোগ। বর্তমানে ওই ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি ফোন ধরছেন না বা এড়িয়ে যাচ্ছেন।
শুধু তাই নয়, বিভিন্ন সময় যাতায়াত, ফর্ম জমা ও অন্যান্য খরচের নামে তার কাছ থেকে আরও প্রায় ১০,০০০ টাকা খরচ হয়েছে। অথচ এত খরচ ও পরিশ্রমের পরেও আধার কার্ড না হওয়ায় তার সন্তানের নাম নথিভুক্ত করা যাচ্ছে না এবং কোনো সরকারি সুবিধাও পাচ্ছেন না তারা।
সংবাদমাধ্যমের সামনে আবেগঘন কণ্ঠে অহিদ মিয়া বলেন, “সরকারের ‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশ’ স্লোগান যেন বাস্তবেও কার্যকর হয়। আমি একজন গরিব মানুষ, আমার পাশে দাঁড়ানোর মতো কেউ নেই। আমার সমস্যার দ্রুত সমাধান করা হোক।”
এই ঘটনায় স্থানীয় মহলে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।


