Pecharthal CPIM News : পেঁচারথল মহকুমার অন্তর্গত ৪ নং করমছড়া আসনকে ঘিরে নির্বাচনী উত্তাপ ক্রমশ বাড়ছে। শুক্রবার বাম দল মনোনীত প্রার্থী সাধন কুমার চাকমার সমর্থনে আয়োজিত হয় এক বিশাল প্রচার মিছিল ও জনসভা। মিছিল ও সভায় উপস্থিত ছিলেন বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরী সহ দলের অন্যান্য শীর্ষ নেতৃত্ব।
এদিন সকাল থেকেই এলাকায় বাম সমর্থকদের ভিড় লক্ষ্য করা যায়। মিছিল ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়। দলীয় পতাকা ও স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে করমছড়া এলাকা। জনসভায় সমর্থকদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো, যা বাম শিবিরের সংগঠনিক শক্তির পরিচয় দেয় বলে মনে করছেন রাজনৈতিক মহলের একাংশ।
সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে জিতেন্দ্র চৌধুরী বিজেপি, কংগ্রেস ও তিপরা মথাকে একযোগে তীব্র আক্রমণ করেন। তিনি বলেন, বহু সংগ্রাম, ত্যাগ ও রক্তের বিনিময়ে এডিসি গঠিত হয়েছিল, যা বামফ্রন্ট ও গণমুক্তি পরিষদের দীর্ঘ আন্দোলনের ফসল। তাঁর দাবি, একসময় কংগ্রেস ও তৎকালীন উপজাতি যুব সংগঠনগুলি এডিসি গঠনের বিরোধিতা করেছিল।
তিনি অতীতের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ১৯৭৯ সালে যখন প্রথম এডিসি নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল, তখন কংগ্রেসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল—“রক্ত দেব, এডিসি দেব না।” শুধু তাই নয়, দিল্লিতে গিয়ে এই আইন বাতিল করার কথাও বলা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি।
জিতেন চৌধুরী আরও বলেন, সেই সময় উপজাতি যুব সমিতির নেতৃত্বে থাকা ব্যক্তিরাই আজকের তিপরা মথা ও আইপিএফটির পূর্বসূরি। তিনি দাবি করেন, কংগ্রেস কৌশলগতভাবে উপজাতি যুবকদের আলাদা সংগঠনে যুক্ত করে রাজনৈতিকভাবে বিভাজনের চেষ্টা করেছিল।
রাজনৈতিক ইতিহাস তুলে ধরে তিনি রাজপরিবারের ভূমিকাও উল্লেখ করেন এবং অভিযোগ করেন, সরল মানুষকে বিভ্রান্ত করতে বিভিন্ন স্লোগান ও সংগঠনের মাধ্যমে বিভাজনের রাজনীতি করা হয়েছিল।
সভা থেকে তিনি বর্তমান পরিস্থিতিতে বামফ্রন্টের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের উপর জোর দেন এবং বলেন, মানুষের অধিকার রক্ষা ও উন্নয়নের স্বার্থে বাম শক্তিকে পুনরায় শক্তিশালী করা প্রয়োজন।
অন্যদিকে, প্রার্থী সাধন কুমার চাকমাও নিজের বক্তব্যে এলাকার উন্নয়ন, অধিকার ও মানুষের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি সাধারণ মানুষের সমর্থন কামনা করেন এবং নির্বাচনে জয়ী হলে এলাকার সামগ্রিক উন্নয়নে কাজ করার আশ্বাস দেন।
সমগ্র কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে করমছড়া এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়, যা নির্বাচনের আগে বাম শিবিরকে বাড়তি আত্মবিশ্বাস জোগাচ্ছে বলেই মনে করা হচ্ছে।



