Bishalgarh News : বিশালগড়ে ক্রমবর্ধমান অসামাজিক কর্মকাণ্ডের জেরে আতঙ্ক ছড়িয়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। ফের একবার দুষ্কৃতীদের দাপটে কেঁপে উঠল নেতাজি নগর এলাকা। শুক্রবার গভীর রাতে এক ঠিকাদারের বাড়িতে ঢুকে তিন রাউন্ড গুলি চালানোর অভিযোগ উঠেছে দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে ৫০ লক্ষ টাকা না দিলে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাড়ির সদস্যরা।
ঘটনাটি ঘটে বিশালগড় থানার অন্তর্গত নেতাজি নগরে। বাড়ির মালিক মাদু সাহা (পিতা অনিল সাহা) জানান, রাতের বেলায় দরজায় কড়া নাড়লে তিনি প্রথমে ভিডিও কলের মাধ্যমে এক যুবকের মুখ দেখতে পান। ওই যুবক নিজেকে রণবীর দেবনাথ বলে পরিচয় দিয়ে বাড়ির কর্তার খোঁজ করেন। বাড়ির কর্তা উপস্থিত না থাকার কথা জানানো হলে, অভিযুক্ত সরাসরি হুমকি দেয়—নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ৫০ লক্ষ টাকা না দিলে তাকে গুলি করে হত্যা করা হবে।
এরপরই দুষ্কৃতীরা বাড়ির সামনে আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন করে এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই পরপর তিন রাউন্ড গুলি চালায়। ভয়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন বাড়ির সদস্যরা। পরিস্থিতির চাপে দরজা বন্ধ করে ভিতরেই আশ্রয় নেন তারা। ঘটনার পর আর বাইরে বের হওয়ার সাহস পাননি বলেও জানান পরিবারের সদস্যরা।
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বিশালগড় থানার পুলিশ। শনিবার সকালে এসডিপিও বিকাশ সেনথিয়ার নেতৃত্বে বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং তদন্ত শুরু করে। ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে, যেখানে অভিযুক্তের উপস্থিতি ধরা পড়েছে বলে জানা গেছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, অভিযুক্ত রণবীর দেবনাথের বিরুদ্ধে এর আগেও একাধিক ছিনতাই ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই বিশালগড় বাইপাস ও সংলগ্ন এলাকায় দুষ্কৃতীচক্রের প্রভাব বাড়ছে, যার ফলে সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। অভিযোগ উঠেছে, প্রভাবশালী মহলের মদতে অভিযুক্তরা বারবার আইনের ফাঁক গলে বেরিয়ে যাচ্ছে।
যদিও পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েনি। কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটছে, যেগুলির সঙ্গে মাদকাসক্ত বা মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তিদের যোগ থাকতে পারে। অভিযুক্তকে গ্রেফতারের জন্য ইতিমধ্যেই তল্লাশি শুরু হয়েছে এবং খুব শীঘ্রই তাকে আটক করা সম্ভব হবে বলে আশ্বাস দিয়েছে পুলিশ প্রশাসন।
এদিকে, এই ঘটনার পর বিশালগড়ের সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। রাত নামলেই নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা বাড়ছে। দ্রুত দুষ্কৃতীদের গ্রেফতার ও কঠোর শাস্তির দাবি তুলেছেন এলাকাবাসী।



