Tripura High Court : রাজ্য সরকারের ২০০১ ও ২০০৭ সালের দুইটি সিদ্ধান্তকে উচ্চ আদালত সংবিধানবিরোধী ঘোষণা করেছে। ওই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সরকারি স্থায়ী নিয়োগপ্রাপ্তদের প্রথম পাঁচ বছর “স্থির বেতন” পেতে হতো এবং এর পরেই নিয়মিত বেতনক্রম শুরু হতো। তবে, ত্রিপুরা উচ্চ আদালতের ডিভিশন বেঞ্চ রায়ে বলা হয়েছে, এই ব্যবস্থা সংবিধানের ১৪ ধারার সাথে সাংঘর্ষিক।
আইনজীবী পুরুষোত্তম রায় বর্মণ জানান, আদালতের রায়ে বলা হয়েছে, যেসব শিক্ষক ও স্থায়ী সরকারি কর্মচারী রিট মামলা দায়ের করেছিলেন, তাদের চাকরির প্রথম দিন থেকেই নিয়মিত বেতনক্রম দেওয়ার নির্দেশ হয়েছে। এর ফলে, টেট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকরা প্রথম দিন থেকেই রেগুলার পে স্কেলে বেতন পাবেন।
এই রায় দুটি রিট আপিল মামলার ভিত্তিতে এসেছে। মামলার প্রাথমিক পর্যায়ে প্রধান বিচারপতি জাস্টিস রঞ্জন মুখার্জী এই মামলা খারিজ করেছিলেন। সরকারের যুক্তি ছিল, চাকরিতে নিয়োগপ্রাপ্তদের কাছ থেকে “মুচলেকা” নেওয়া হয়েছিল এবং তারা স্বেচ্ছায় পাঁচ বছরের স্থির বেতন মেনে নিয়েছিলেন। তবে আদালত আপিল পর্যায়ে জানিয়েছে, ওই মুচলেকা কোনোভাবেই বৈধ বিবেচিত হতে পারে না, কারণ এটি প্রার্থীকে বাধ্য করে নেওয়া হয়েছিল।
উচ্চ আদালতের ডিভিশন বেঞ্চের মাননীয় প্রধান বিচারপতি এম এস রামচন্দ্র রাও এবং বিচারপতি পালিত রায়ে বলেছেন, রিট আবেদনকারীদের চাকরির প্রথম দিন থেকেই নিয়মিত বেতন দেওয়া হবে। এছাড়াও, তিন বছরের অতিরিক্ত বেতনের ক্ষেত্রে ৯% সুদসহ নগদ পরিশোধ করতে হবে। প্রত্যেক রিট আবেদনকারীকে আদালত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ₹২,০০০ খরচ রাজ্য সরকারকে প্রদান করতে হবে।
এই রায়ের ফলে শুধু রিট আবেদনকারীরাই নয়, বরং রাজ্যের হাজার হাজার শিক্ষক ও সরকারি কর্মচারী উপকৃত হবেন। কারণ, এর আগে যে “পাঁচ বছর স্থির বেতন” প্রথা চলে আসছিল, তা এখন আর বৈধ নয়। আদালত স্পষ্ট করেছেন, সংবিধানের মূল আদর্শ এবং সমতার নীতি অনুযায়ী, সরকারি চাকরিতে নিয়োগপ্রাপ্তদের সঙ্গে বৈষম্য করা যাবে না।
আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই রায়ের প্রভাব দীর্ঘমেয়াদি হবে এবং অন্যান্য রাজ্যের সরকারি কর্মচারীরাও এই রায়ের সুযোগ নিতে পারবেন। ত্রিপুরার শিক্ষক সমাজ রায়কে স্বাগত জানিয়েছে এবং আশা প্রকাশ করেছেন যে, ভবিষ্যতে বেতন ও কর্মসংস্থান নীতিতে আরও স্বচ্ছতা আসবে।



