Tripura Smart Meter : স্মার্ট মিটার বসানোর পর অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিল নিয়ে তীব্র উদ্বেগ তৈরি হয়েছে কলিরাম পাড়ায়। মন্ত্রী কিশোর বর্মনের নির্বাচনী এলাকার বাসিন্দা নাইথকতি জমাতিয়া অভিযোগ করেছেন, স্মার্ট মিটার স্থাপনের পর তাঁর বৃদ্ধা মায়ের বিদ্যুৎ বিল এসে দাঁড়িয়েছে ৯,৮২১ টাকা, যা দেখে তিনি কার্যত হতবাক।
নাইথকতি জমাতিয়ার দাবি, দীর্ঘদিন ধরে তাঁর মা অত্যন্ত স্বাভাবিকভাবেই বিদ্যুৎ ব্যবহার করে আসছেন। ঘরে কোনও ভারী বৈদ্যুতিক যন্ত্র নেই, দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল ব্যবহার। এতদিন বিদ্যুৎ বিল সাধারণত ১০০ থেকে ২০০ টাকার মধ্যেই থাকত। কিন্তু সম্প্রতি বাড়িতে স্মার্ট মিটার বসানোর পর হঠাৎ করেই কয়েক হাজার টাকার বিল হাতে পেয়ে অসহায় হয়ে পড়েছেন ওই বৃদ্ধা।
বৃদ্ধার পক্ষে এত বিপুল অঙ্কের বিল পরিশোধ করা কার্যত অসম্ভব বলে জানিয়েছেন তাঁর পরিবার। তাঁদের অভিযোগ, স্মার্ট মিটার বসানোর আগে কখনও এই ধরনের বিল আসেনি। ফলে মিটার রিডিং, হিসাব কিংবা যান্ত্রিক ত্রুটি নিয়ে গুরুতর সন্দেহ দেখা দিয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রুত উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বিদ্যুৎ দপ্তর ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে লিখিত আবেদন জানানো হয়েছে।
এই ঘটনার পর এলাকা জুড়ে ক্ষোভ ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের আশঙ্কা, স্মার্ট মিটার বসানোর পর যদি এ ধরনের অস্বাভাবিক বিল নিয়মিত আসতে থাকে, তবে সাধারণ ও নিম্ন আয়ের মানুষের পক্ষে বিদ্যুৎ ব্যবহার চালিয়ে যাওয়াই কঠিন হয়ে পড়বে। অনেকেই স্মার্ট মিটারের কার্যকারিতা ও স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন।
এখন দেখার বিষয়, বিদ্যুৎ দপ্তর এই অভিযোগকে কতটা গুরুত্ব দিয়ে দেখে এবং আদৌ কোনও তদন্ত করে বিল সংশোধনের উদ্যোগ নেয় কি না। কারণ একটি ভুল বিল শুধুমাত্র একটি পরিবারের নয়, গোটা এলাকার মানুষের মধ্যেই অনিশ্চয়তা ও ভয় তৈরি করছে।



