Teliamura Dolbari News : তেলিয়ামুড়ায় জমি সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিবাদকে কেন্দ্র করে এক বিধবা গৃহবধূর উপর নির্মম নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশী এক পরিবারের বিরুদ্ধে। গুরুতর আহত অবস্থায় ওই মহিলা বর্তমানে আগরতলার জিবি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং তেলিয়ামুড়া থানার ভূমিকা নিয়েও উঠছে একাধিক প্রশ্ন।
জানা যায়, ২০২৪ সাল থেকে তেলিয়ামুড়া দোলবাড়ি-গোলাবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত প্রয়াত রামু চক্রবর্তীর পরিবারের সঙ্গে প্রতিবেশী মধু দাসের জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। অভিযোগ, জমি দখলকে কেন্দ্র করে এর আগেও একাধিকবার হুমকি ও হামলার শিকার হয়েছেন রামু চক্রবর্তীর বিধবা স্ত্রী। স্থানীয় সূত্রের দাবি, প্রথম দফায় মারধরের পরেও বিষয়টি সেভাবে সুরাহা হয়নি।
চলতি বছরের ২১ ডিসেম্বর ফের ওই গৃহবধূর উপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ। গুরুতর জখম অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ঘটনার পর পঞ্চায়েত প্রধান গোপাল বাবুর কাছে বিষয়টি জানানো হলেও নির্যাতিতার পরিবারের অভিযোগ, সেখান থেকেও কার্যকর কোনো সমাধান মেলেনি।
পরবর্তীতে তেলিয়ামুড়া থানায় অভিযোগ জানাতে গেলে পরিস্থিতি আরও হতাশাজনক হয়ে ওঠে বলে দাবি নির্যাতিতার। অভিযোগ অনুযায়ী, থানার ওসি জয়ন্ত ডে নাকি বিষয়টি স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা-নেত্রীদের মাধ্যমে মিটিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দেন। এতে ক্ষোভ ও আতঙ্ক আরও বাড়ে নির্যাতিত পরিবারের মধ্যে।
হাসপাতালের বিছানা থেকেই কান্নায় ভেঙে পড়েন আহত মহিলা। তিনি জানান, জমির ম্যাপ অনুযায়ী তাঁর প্রাপ্য অংশ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং সেই কারণেই তাঁকে বাড়ি থেকে উৎখাত করার চেষ্টা চলছে। নাবালক সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম আশঙ্কার কথাও জানান তিনি।
মধু দাস, গৌরি দাস ও তাঁদের পরিবারের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়ে নির্যাতিতা ও তাঁর স্বজনরা প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছেন। এখন দেখার, মুখ্যমন্ত্রীর সুশাসনের প্রতিশ্রুতির আলোকে এই ঘটনায় কতটা দ্রুত ও নিরপেক্ষ ব্যবস্থা নেয় পুলিশ প্রশাসন।
বারবার হামলার শিকার হয়েও যদি একজন নির্যাতিতা থানায় গিয়ে ন্যায্য সহায়তা না পান, তবে তা সমাজ ও প্রশাসনের জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয়। দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা এবং নির্যাতিতা পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখন সময়ের দাবি। নচেৎ সুশাসনের দাবি কেবল কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ থেকে যাবে, আর সাধারণ মানুষের আস্থা প্রশাসনের উপর থেকে ক্রমশ হারিয়ে যাবে।



