খবরে প্রতিবাদ

খবরে প্রতিবাদ

Friday, 13 February 2026 - 12:34 PM
শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ - ১২:৩৪ অপরাহ্ণ

Teliamura Drugs News : তেলিয়ামুড়ায় ড্রাগস-আসক্ত যুবকের মৃত্যু ঘিরে রাতভর উত্তেজনা

Teliamura Drugs News
1 minute read

Teliamura Drugs News : নেতাজি নগর মোটর স্ট্যান্ড সংলগ্ন দীর্ঘদিনের শান্ত পরিবেশ বৃহস্পতিবার গভীর রাতে আচমকাই ভেঙে পড়ে। ড্রাগস-নির্ভরতা গ্রস্ত যুবক নারায়ণ মাদ্রাজির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে মুহূর্তে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে তেলিয়ামুড়া শহর। রাত বাড়তেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।

স্থানীয়দের বক্তব্য, নারায়ণ দীর্ঘ সময় ধরে মাদকের নেশায় ডুবে ছিল। বিকেলের দিকে অতিরিক্ত মাত্রার নেশাজাতীয় দ্রব্য সেবনের জেরে তার মৃত্যু ঘটে বলে প্রাথমিক অনুমান। অভিযোগ উঠেছে, নারায়ণ নিয়মিতভাবে একই এলাকার কুখ্যাত মাদক সরবরাহকারী প্রশান্ত সরকার ওরফে ‘পেরু’-র কাছ থেকেই নেশা সংগ্রহ করত। এলাকায় ‘পেরু’ নামটি মাদকচক্রের সঙ্গে বহুদিন ধরে জড়িত বলে পরিচিত।

এই মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই উত্তেজনার স্রোত ছুটে যায় সাধারণ মানুষের মধ্যে। রাত নেমে আসতেই ক্ষোভে ফুঁসে ওঠা বাসিন্দারা ‘পেরু’-র বাড়ির সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। ক্রমে পরিস্থিতি সহিংস রূপ নেয়—ভাঙচুর করা হয় তার স্কুটি, একটি দোকানে অগ্নিসংযোগও ঘটে। অল্প সময়ের মধ্যেই এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় তেলিয়ামুড়া মহকুমা প্রশাসনের ডি.সি.এম ও এস.ডি.পি.ও-র নেতৃত্বাধীন বিশাল পুলিশবাহিনী। পুলিশ উত্তেজিত জনতাকে নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয় এবং রাতেই তদন্ত শুরু হয়।

এলাকার বহু মানুষের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে ‘পেরু’-র দৌরাত্ম্যে তেলিয়ামুড়ায় মাদকাসক্তির প্রবণতা বাড়ছে। তাদের অভিযোগ—“মাদক ব্যবসায়ীরা দিনের পর দিন যুবসমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে, অথচ প্রশাসনের কার্যকর ব্যবস্থা চোখে পড়ে না।”

এই ঘটনার পর শহরজুড়ে মাদকবিরোধী জনমত আরও তীব্র হয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন—“প্রতিনিয়ত প্রাণহানি ঘটার পরও কেন কঠোর অভিযান দেখা যায় না?”

তেলিয়ামুড়ার মানুষের একটাই দাবি—অবিলম্বে মাদকমুক্ত সমাজ গড়ে তোলা। এখন নজর, জনরোষ প্রশাসনকে কতটা কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করে।

তেলিয়ামুড়ার সাম্প্রতিক ঘটনাটি স্পষ্টভাবে দেখিয়ে দিল—মাদক সমস্যা আর ব্যক্তিগত ক্ষতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; এটি পুরো সমাজের জন্য এক গভীর সংকট। নারায়ণ মাদ্রাজির মৃত্যু শুধুমাত্র একটি ট্র্যাজেডি নয়, বরং বহুদিনের জমে থাকা ক্ষোভ ও বেদনার বিস্ফোরণ। প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি সাময়িকভাবে শান্ত হলেও, এলাকার বাসিন্দাদের মূল দাবি রয়ে গেছে—টেকসই সমাধান।

মাদকচক্রের দৌরাত্ম্য রুখতে কঠোর আইন প্রয়োগ, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক উদ্যোগ এখন সময়ের দাবি। মানুষের প্রত্যাশা একটাই—তেলিয়ামুড়া যেন মাদকমুক্ত হয়ে আবার তার পুরোনো শান্ত পরিবেশ ফিরে পায়।

For All Latest Updates

ভিডিও