Agartala CPIM Relly : ধর্মনগরে সিপিআইএম কর্মী অমিতাব দত্ত ও রতন রায়ের উপর দুষ্কৃতিকারীদের হামলার ঘটনায় সোমবার এক প্রতিবাদ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। ঘটনায় গুরুতর আহত দুই কর্মী বর্তমানে জিবি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এদিন মিছিলে উপস্থিত বাম নেতৃত্ব অভিযোগ করেন—ত্রিপুরার বর্তমান সরকার “স্বৈরাচারী ও নয়া ফ্যাসিস্ট” চরিত্রের পরিচয় দিচ্ছে, এবং তার ফলেই রাজনৈতিক ভিন্নমতকে আক্রমণ করা হচ্ছে।
নেতৃত্বের বক্তব্য অনুযায়ী, রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় বিরোধী দলের কর্মসূচি নানাভাবে ব্যাহত করা হচ্ছে। বিশেষ করে ধর্মনগরে সাম্প্রতিক ঘটনাগুলি সরকারের রাজনৈতিক অসহিষ্ণুতার উদাহরণ বলে দাবি তাদের। তারা অভিযোগ করেন, পুলিশের অনুমতি নিয়েই সভা-সমাবেশ করা হলেও তা পছন্দ করছে না ক্ষমতাসীন দল, কারণ মানুষ ভয় কাটিয়ে প্রতিবাদে যোগ দিচ্ছেন।
এদিন তারা আরও অভিযোগ করেন যে গুরুতর আহত সিপিআইএম নেতাদের হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রেও সরকারি যন্ত্রপাতির ভূমিকা অত্যন্ত প্রশ্নসাপেক্ষ। তাদের বক্তব্য, ফায়ার সার্ভিস বা পুলিশের কোনো গাড়ি দেওয়া হয়নি; বরং স্থানীয়দের উদ্যোগে একটি ছোট লরিতে করে আহতদের হাসপাতালে পাঠানো হয়। এক সাংবাদিককেও হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে।
বাম নেতৃত্বের দাবি, এধরনের হামলা রাজনৈতিকভাবে ভিন্নমত দমনের উদ্দেশ্যে চালানো হচ্ছে। তবে এতে তারা ভীত না হয়ে রাস্তাতেই গণতান্ত্রিক আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। তাদের কথায়, “কমিউনিস্টদের রক্তে আন্দোলন আরও শক্তিশালী হয়,” এবং সরকার যদি এভাবে চলতে থাকে, তবে জনমতই তাদের বিরুদ্ধে ঘুরে দাঁড়াবে।
বিক্ষোভ মিছিল থেকে সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়—ঘটনার সঙ্গে যুক্ত দোষীদের অবিলম্বে গ্রেফতার করতে হবে এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। নেতৃত্বদের মতে, সরকারের ন্যূনতম সততা বা জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা থাকলে এ ঘটনার দ্রুত সুরাহা করা উচিত।
ত্রিপুরা সরকারের বিরুদ্ধে ক্রমাগত অভিযোগ উঠছে যে ভিন্নমত দমনে প্রশাসনিক শক্তিকে ব্যবহারের চেষ্টা চলছে। রাজনৈতিক কর্মসূচি ও সাধারণ মানুষের প্রতিবাদকে বাধা দেওয়ার ঘটনায় সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন আরও বেড়েছে। বর্তমান সরকার রাজ্যে গণতান্ত্রিক পরিবেশকে সংকুচিত করে স্বৈরাচারী শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে। এ অবস্থার অবসান না হলে সরকারের প্রতি জনআস্থা আরও গভীর সংকটে পড়বে বলে মনে করছেন তারা।
ধর্মনগরে সিপিআইএম কর্মীদের ওপর হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও তীব্র হয়েছে। বিরোধী দলের অভিযোগ এ ধরনের নৃশংসতা গণতান্ত্রিক অধিকারকে হুমকির মুখে ফেলছে এবং সরকারের কর্তব্যে গুরুতর গাফিলতি প্রকাশ করছে। বিক্ষোভ মিছিল থেকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে যে রাজনৈতিক দমন-পীড়ন সত্ত্বেও তারা পিছিয়ে যাবে না; বরং জনসমর্থন নিয়েই আন্দোলন আরও জোরদার করবে। এখন নজর রাজ্য সরকারের দিকে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিয়ে তারা কি ন্যায়বিচারের আশ্বাস দিতে পারবে, নাকি অভিযোগের সুর আরও তীব্র হবে—সেই প্রতীক্ষায় রাজ্যবাসী।



