The honest pillar Narayan Chandra Choudhury
সততার উদাহরণ গড়েছেন এই বাম বিধায়ক, আজো বাস করছেন ভাঙ্গা মাটির ঘরে
উত্তর পূর্ব ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য রাজনৈতিক প্রেক্ষপটের ভিত্তিতে এমন একটি স্থান যা বরাবরই এর রাজনৈতিক পরিকাঠামোর জন্যে আলোচনার কেন্দ্র বিন্দু হয়ে দাঁড়িয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ ও কেরলের পর এই ত্রিপুরাই সেই রাজ্য যেখানে বামপন্থা এক টানা লম্বা সময় যাবত শাসন ক্ষমতা ধরে রাখতে পেরেছে। দীর্ঘ ২৫ বছর এক টানা বাম শাসনে বহু উত্থান পতন ঘটেছে । বহু নতুন মুখ সংযুক্ত হয়েছে তো অনেক মুখ আবার অচিরেই হাড়িয়ে গেছে। কিন্তু তার মাঝেও এমন কিছু ব্যক্তিত্ব আজো স্থায়ী রয়ে গেছেন যাদের নিয়ে বলতে গিয়ে শব্দ ও কম পরে যায়। এমনই একজন ব্যক্তি হলেন নারায়ন চন্দ্র চৌধুরী।
১৯৯৮ সালে প্রথম সিপিআইএম এর টিকিটে কমলাসাগর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে ভোটে দারান তিনি। আর প্রথম বারেই বাজীমাৎ করে দিয়ে কমলাসাগর থেকে জয়লাভ করেন। এর পর আর কোন ওয়িকেট ডাউন নয়। এক টানা ২৫ বছর অর্থাৎ ১৯৯৮ থেকে ২০২৩ অব্দি একটানা এই কেন্দ্র থেকে জীতে গেছেন।
উনার হাত ধরে কমলাসাগর বিধানসভা কেন্দ্রে হয়েছে একের পর এক উন্নয়ন মূলক কাজ। উক্ত কেন্দ্রের সমস্ত হাই স্কুল, প্রাইমারি স্কুল গুলোর নতুন বিল্ডিং নির্মাণ হয়েছে। এছাড়া মধুপুর প্রাথমিক চিকিৎসা কেন্দ্র টির নতুন ভবন ও নির্মাণ হয় উনার হাত ধরেই। শুধু তাই নয়। কসবেশ্বরী কালি মায়ের মন্দির যা তৎকালে একটি টিনের ছাউনি দেওয়া ঘর মাত্র ছিল সেটির বর্তমান মন্দির টিও উনার আমলেই নির্মিত হয়েছে। বলা চলে, কমলাসাগর কে সার্বিক ভাবে উন্নত করতে এক অনস্বীকার্য ভূমিকা রয়েছে উনার। কিন্তু উনি নিজের জন্যে কি করলেন ?
জবাব, কিছুই না। আজো উনার বাড়িতে তিন টে ঘর আছে। প্রত্যেকেই মাটির ঘর। একটি ঘর প্রায় ভগ্ন দশায় পরিণত। বাকি একটি টে উনি থাকেন। আর অপর আরেকটি মাটির ঘরে উনার জন্যে মোতায়েন দুজন দেহরক্ষী। বৈবাহিক বন্ধনে আবদ্ধ হন নি। জীবনের সবটুকু উনি উজার করে দিয়েছেন রাজনীতি কে। আজ উনাকে দেখাশোনা করার মতো নেই উনার পরিবার বলতে কেউই।
যেখানে বর্তমান সরকার এর এক এক নেতা নেত্রী , বিধায়ক , মন্ত্রী দের অট্টালিকা দেখে মানুষের চোখ ধাধিয়ে যায় সেখানে নারায়ন চন্দ্র বাবুর বাড়িতে গেলে বলাই যাবে না যে এটা কোনো এক কালের বিধায়ক এর বাড়ি। উনি জানান, পার্টি উনাদের চলন সই বাবদ কিছু অর্থ প্রদান করতো। আর বাকি টা দিয়ে দিতে হতো পার্টি কেই। এছাড়া বিধায়ক তহবিল থেকে উনি যাবতীয় কাজ করাতেন নিজের এলাকার মানুষের জন্যে। কখনো সেই অর্থ থেকে নিজের জন্যে ব্যয় করেন নি। এমন লোভ কিংবা লালসা উনার কোন কালেই জন্মায় নি। অথচ , অনেকেই আজো অভিযোগ করেন বাম আমলে নাকি লুট পাট হয়েছে জনগণের অর্থ। বাম নেতারা নাকি দিনের পর দিন লুটে ছে মানুষের হকের টাকা। তাহলে সেই টাকা গেল কই ? কেন আজ অব্দি কোনো কেলেঙ্কারি নিয়ে চার্জশিট জমা করতে পারলো না পুলিশ আদালতে ? সেই প্রশ্ন তুললেই রাষ্ট্র বাদী দল ও তাদের অনুগত দের মুখে কুলুপ এঁটে যায়।
দুর্নীতি হয়েছে বটে। তবে তার পেছনে যুক্ত বেশির ভাগ টাই আড়ালে আবডালে আজো দুর্নীতি করে চলেছে। হয়তো রূপ পাল্টে, দল পাল্টে। কিন্তু বাম দলীয় এই বিধায়ক (প্রাক্তন বিধ্যাওক) যিনি দীর্ঘ ২৫ বছর এই কেন্দ্র থেকে জনতার রায়ে জয়ী হয়েছেন উনি কতটা সৎ ছিলেন তা আর বিষদে বলার অপেক্ষা রাখে না। উনার মতো নেতৃত্ব আজ কের দিনে দাঁড়িয়ে বিরল। রাজ্যের অভূতপূর্ব উন্নয়ন বোধয় সম্ভব ছিল এদের হাত ধরেই।