Teliamura Blood Cancer Child : তেলিয়ামুড়া মহকুমার চাকমাঘাটের লোকনাথ মন্দির এলাকার বাসিন্দা বিশ্বজিৎ দাস ও বাসন্তী সাহা দাসের জীবন আজ চরম দুঃখে আচ্ছন্ন। তাদের একমাত্র ছেলে, ছয় বছরের কৃষ দাস, সম্প্রতি রক্ত ক্যান্সারে আক্রান্ত বলে ধরা পড়েছে। খবরটি জানাজানি হতেই গোটা এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, বাবা বিশ্বজিৎ দাস পেশায় একজন জেলে। প্রতিদিন খোয়াই নদী থেকে মাছ ধরে সংসার চালান তিনি। তবে দুর্ভাগ্যজনকভাবে তিনি শতভাগ বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী। অন্যদিকে মা বাসন্তী সাহা দাস ৭৫ শতাংশ মানসিক প্রতিবন্ধকতায় ভুগছেন। এত প্রতিকূলতার মধ্যেও দু’জনে জীবনের সঙ্গে লড়াই করে সন্তানের ভবিষ্যৎ গড়ার চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু এখন একমাত্র সন্তানের ক্যান্সারের চিকিৎসার খরচ তাদের পক্ষে একেবারেই অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অভিযোগ উঠেছে, সরকারি সহায়তার জন্য একাধিকবার দরজায় কড়া নাড়লেও এখনো পর্যন্ত তেমন কোনো ইতিবাচক সাড়া মেলেনি। বিধ্বস্ত বাবা-মা তাই শেষ ভরসা হিসেবে মুখ্যমন্ত্রী ড. মানিক শাহ এবং রাজ্যের সাধারণ মানুষের কাছে সাহায্যের আবেদন জানিয়েছেন।
এই পরিস্থিতিতে পাশে দাঁড়িয়েছে সমাজসেবী সংগঠন “তেলিয়ামুড়া ভলেন্টিয়ার অ্যাসোসিয়েশন”। সংগঠনের সদস্যরা জানান, কৃষ দাসের চিকিৎসার জন্য যতটুকু সম্ভব অর্থ জোগাড়ের চেষ্টা করছেন তারা। তবে একার পক্ষে এই দায়ভার বহন সম্ভব নয়। তাই সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষকে এগিয়ে আসার অনুরোধ জানিয়েছেন তারা।
সংগঠনের পক্ষ থেকে এক সদস্য বলেন – “আমরা চাই শিশুটি সুস্থ হয়ে নতুন জীবন পাক। এজন্য সামান্য সহায়তাও যদি সবাই মিলে করেন, তবে তা কৃষের জীবনের জন্য আশীর্বাদ হবে।”
ইতিমধ্যেই অনেকেই সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। কেউ আর্থিক সহায়তা করেছেন, কেউ আবার সামাজিক মাধ্যমে খবরটি শেয়ার করে আরও মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছেন।
স্থানীয়দের দাবি, প্রশাসন ও সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগেই সম্ভব কৃষ দাসের জীবন রক্ষা করা। এখন দেখার বিষয়—মানবিক এই আহ্বানে কতটা সাড়া দেন মুখ্যমন্ত্রী এবং ত্রিপুরার মানুষ।
একটি শিশুর জীবন বাঁচাতে আপনাদের সামান্য সহায়তাই হতে পারে সবচেয়ে বড় আলো।