খবরে প্রতিবাদ

খবরে প্রতিবাদ

Saturday, 31 January 2026 - 08:17 PM
শনিবার, ৩১ জানুয়ারি ২০২৬ - ০৮:১৭ অপরাহ্ণ

Krishnapur Death News : শ্বশুর বাড়িতে চরম নির্যাতনের শিকার হয়ে আত্মঘাতী গৃহবধূ

Krishnapur Death News
1 minute read

Krishnapur Death News : শ্বশুর শ্বাশুড়ী ও স্বামীর নিত্যদিনের নির্যাতন সহ্য করতে না পেয়ে আত্মঘাতী হল আরও এক গৃহবধূ। সভ্যতার চরম শিখরে দাড়িয়ে আজো যখন এধরনের ঘটনা ঘটে , তখন মানবতা এবং মনুষ্যত্ব উভয়ই কাঠগড়ায় দাড়ায়।

উল্লেখ্য, তেলিয়ামুড়া থানাধীন ২৯ কৃষ্ণপুর বিধানসভা কেন্দ্রের বালুছড়া এলাকায় শনিবার সকালে এক গৃহবধূর মৃতদেহ উদ্ধার কে ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছরায়। মৃত গৃহবধূর নাম অঙ্কিতা সরকার , বয়স মাত্র ১৯ বছর।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রায় তিন বছর আগে মোহরছড়া এলাকার নাবালিকা অঙ্কিতা নমঃ দাসের সঙ্গে কৃষ্ণপুর বালুছড়া এলাকার যুবক অনন্ত সরকারের প্রেম ঘটিত সম্পর্কের জেরে বিবাহ হয়। বিবাহের পর থেকেই অঙ্কিতার উপর শ্বশুর বাড়িতে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চলত বলে অভিযোগ মৃতার পরিবারের। স্বামী প্রায়শই তাকে বাপের বাড়ি থেকে টাকা পয়সা আনার জন্যে চাপ দিতো এবং মারধোর করত।

সমস্ত অত্যাচার সহ্য করেও সংসার টিকিয়ে রেখেছিল ১৯ বছর বয়সী অঙ্কিতা। কিন্তু সহ্যের বাধ ভাঙ্গে শনিবার। স্বামী ও শ্বশুর বাড়ির লোকজনের অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মঘাতী হয় সে। ঘটনার খবর পেয়ে ছুটে আসে তার মা বাবা আত্মীয় পরিজন। মেয়ের নিথর দেহ দেখে কান্নায় ভেঙ্গে পরেন মা বাবা।

ততসঙ্গে শ্বশুর বাড়ির লোকেদের দিকে আঙুল তুলে সমস্ত ঘটনার খোলসা করেন মৃতার মা বাবা।

পরিবারের লোকজন যদিও তার মৃত দেহ দেখতে পেয়ে তাকে দ্রুত তাঁকে তেলিয়ামুড়া মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যান এবং বিষয়টি তেলিয়ামুড়া থানাকে জানানো হয়। খবর পেয়ে তেলিয়ামুড়া থানার পুলিশ ও ফরেনসিক টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে।

মৃতার পরিবারের দাবি, এটি আত্মহত্যা নয়, বরং শ্বশুরবাড়ির লোকজন পরিকল্পিতভাবে অঙ্কিতাকে হত্যা করে তার দেহ ঝুলিয়ে রেখেছে। অন্যদিকে এলাকার একাংশের দাবি, অপ্রাপ্ত বয়সে বিবাহের জেরেই এই মর্মান্তিক ঘটনার সূত্রপাত। তবে এই যুক্তি সম্পূর্ণ ভাবেই গ্রহণযোগ্য মোটেও নয়। অপ্রাপ্তবয়সে বিয়ে করেও হাজার হাজার মানুষ সুখে সংসার করছেন।

আর্থিক লোভ কিংবা পনের জন্যে গৃহবধূ কে নিত্যদিন নির্যাতন করা কোনোভাবেই বয়স ভিত্তিতে ভিন্ন সমস্যা নয়। সুতরাং মৃতার মা বাবার অভিযোগ যদি সত্য প্রমানিত হয় তবে অংকিতার শ্বশুর বাড়ির লোক জন এবং তার স্বামী দৃষ্টান্তমূলক সাঁজা প্রাপ্তির যোগ্য।

মৃতার পরিবার সূত্রে জানা যায়, তারা ন্যায্য বিচারের দাবিতে গৃহবধূর স্বামী, শ্বশুর ও শাশুড়ির বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করবেন। যদিও এখন অব্দি মামলা হয়েছে কিনা তা জানা যায়নি। পুলিশ এর বক্তব্য, লিখিত অভিযোগ দায়ের হলেই পুলিশ তদন্ত শুরু করবে।

For All Latest Updates

ভিডিও