Dharmanagar News : ত্রিপুরার ধর্মনগরের বিশেষ আদালত এক গুরুত্বপূর্ণ রায় ঘোষণা করেছে। নাবালিকা ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত দুই যুবককে আদালত ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করেছে। আদালতের বিচারক অংশুমান দেববর্মা পক্সো আইনের অধীনে এই রায় প্রদান করেন।
ঘটনার সূত্রপাত ২০২৩ সালের এপ্রিল মাসে। কাঞ্চনপুরের এক নাবালিকা শারীরিক অসুস্থতায় ভুগতে থাকলে তাকে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যান তার বাবা-মা। চিকিৎসক পরীক্ষার পর জানিয়ে দেন যে মেয়েটি গর্ভবতী। এ খবর শোনার পর হতবাক হয়ে যায় পরিবার। বিষয়টির বিস্তারিত জানতে মেয়েকে প্রশ্ন করলে সে জানায়, প্রতিবেশী দুই যুবক মসেন্দ্র শব্দকর ও নির্মল শব্দকর একাধিকবার জোর করে তাকে যৌন নির্যাতন করেছে। ঘটনাগুলো ঘটে যখন বাড়িতে তার বাবা-মা উপস্থিত ছিলেন না।
এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানার পরপরই মেয়ের বাবা-মা ২০২৩ সালের ২৭শে এপ্রিল কাঞ্চনপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। মামলা হাতে নেন তদন্তকারী অফিসার (আইও) নরেন্দ্র রিয়াং। দীর্ঘ তদন্ত শেষে তিনি আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।
এরপর শুরু হয় দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়া। প্রায় দুই বছর ধরে টানা শুনানি চলে। এই সময়ে মামলার পক্ষে ও বিপক্ষে ২৫ জন সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়। সব প্রমাণ ও সাক্ষ্য বিবেচনা করে আদালত শেষ পর্যন্ত অভিযুক্ত দুই যুবককে দোষী সাব্যস্ত করে।
বিচারক অংশুমান দেববর্মা রায়ে বলেন, “এ ধরনের জঘন্য অপরাধ সমাজের জন্য বড় হুমকি। বিশেষত নাবালিকাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রতিটি মানুষের দায়িত্ব। এই সাজা ভবিষ্যতে অন্যদের জন্য সতর্কবার্তা হয়ে থাকবে।”
মামলার আইনজীবীর বক্তব্য অনুযায়ী, এই রায় শুধুমাত্র ভুক্তভোগীর পরিবারের জন্য ন্যায়বিচারের প্রতীক নয়, বরং সমাজে একটি শক্ত বার্তাও পৌঁছে দিয়েছে যে, শিশু নির্যাতন বা ধর্ষণের মতো অপরাধের শাস্তি এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব নয়।
ঘটনার রায় ঘোষণার পর কাঞ্চনপুর ও আশেপাশের এলাকায় স্বস্তির সুর শোনা যায়। এই রায় নাবালিকা ও নারীদের নিরাপত্তা রক্ষার ক্ষেত্রে এক ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে। একইসঙ্গে পরিবারগুলোকে সচেতন করা প্রয়োজন যে সন্তানদের প্রতি নিয়মিত খেয়াল রাখা অত্যন্ত জরুরি।
‘পক্সো আইন’ (Protection of Children from Sexual Offences Act) শিশুদের বিরুদ্ধে যৌন অপরাধ রোধে কঠোর আইন হিসেবে কার্যকর। এই আইনে অপরাধ প্রমাণিত হলে ন্যূনতম কয়েক বছরের কারাদণ্ড থেকে শুরু করে আজীবন কারাদণ্ডও দেওয়া যেতে পারে। ধর্মনগরের বিশেষ আদালতের এই রায় আবারও প্রমাণ করলো যে পক্সো মামলায় বিচার প্রক্রিয়া যতই দীর্ঘ হোক না কেন, শেষ পর্যন্ত ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়।
দুই বছরের দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়া শেষে অবশেষে অভিযুক্তদের শাস্তি ঘোষণা হওয়ায় ভুক্তভোগীর পরিবার কিছুটা হলেও ন্যায়বিচার পেল। আদালতের এই রায় সমাজে এক কঠোর বার্তা দিচ্ছে—শিশু নির্যাতনের মতো ভয়াবহ অপরাধ কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না।