Charilam Biplab Kumar Deb : কমিউনিস্টদের বিষয়ে কথা বলা বিপ্লব কুমার দেবের ভাষনে থাকবেই। তা সে যতোই ধর্মীয় অনুষ্ঠান হোক না কেন।
গণেশ চতুর্থীর পুন্যলগ্নে নবনির্মিত চড়িলাম মন্ডল কার্যালয়–এর শুভ উদ্বোধন করলেন রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা বর্তমান সাংসদ বিপ্লব কুমার দেব। সকাল ১২ ঘটিকায় অনুষ্ঠিত এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ছিল ভক্তিমূলক পরিবেশ, ভক্তদের উপস্থিতি এবং পূজার আয়োজন। তবে ধর্মীয় আবহের মাঝেই বিপ্লব দেব ফের একবার বিতর্কে জড়ালেন তার বক্তব্যকে কেন্দ্র করে।
অনুষ্ঠানের শুরুতে তিনি শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করলেও বক্তব্যের মাঝেই হঠাৎ তিনি রাজনৈতিক মন্তব্যে প্রবেশ করেন। বহুবার দেখা গেছে বিপ্লব দেব ধর্মীয় অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক ভাষণ দিতে গিয়ে সমালোচিত হয়েছেন। এদিনও ব্যতিক্রম হল না। গণেশ পূজার আসরে দাঁড়িয়ে তিনি ফের সিপিআইএম–এর নাম ধরে কটাক্ষ করেন।
তার ভাষণে তিনি বলেন, “সিপিআইএম পার্টির কর্মকর্তারা কারুর সিজারের ডেট লেনিনের রাখেন। শিশু যেন লেনিনের মতো হতে হয় , অথচ দেশপ্রেমিক নেতা-নেত্রীদের থেকে শিক্ষা নেওয়া হয় না।” এই মন্তব্যে উপস্থিত অনেকেই বিস্মিত হন। কেউ কেউ মনে করেন, ধর্মীয় আসরে রাজনীতি টেনে আনা যথাযথ নয়।
বিপ্লব দেব বারবার অপ্রাসঙ্গিক মন্তব্য করে শুধু বিতর্কই বাড়াচ্ছেন। তাদের দাবি, “ভক্তির আসর রাজনীতির মঞ্চ নয়। মানুষ পূজা–অর্চনা করতে এসেছেন, সেখানে অযথা রাজনৈতিক বিদ্বেষ উস্কে দেওয়া অত্যন্ত দায়িত্বজ্ঞানহীন কাজ।”
তবে বিপ্লব দেবের অনুগামীরা বলছেন, তার বক্তব্যের মূল উদ্দেশ্য ছিল মানুষের সামনে সত্য তুলে ধরা। তাদের দাবি, “বিপ্লববাবু সবসময়ই ইতিহাসের ভুল দিকগুলো তুলে ধরেন, যাতে সমাজ সচেতন হয়।
এর আগেও একাধিকবার বিপ্লব দেবের বক্তব্য সংবাদ শিরোনামে এসেছে। কখনও ইংরেজি নিয়ে মন্তব্য, কখনও ইন্টারনেটের ইতিহাস নিয়ে অদ্ভুত ব্যাখ্যা, আবার কখনও আন্তর্জাতিক রাজনীতির প্রসঙ্গ—সবই জনমনে বিতর্ক তৈরি করেছে। এবারের ঘটনাও সেই ধারাবাহিকতারই অংশ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহল।
ফলত, ধর্মীয় অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক ভাষণ রাখা উচিত কিনা—এই প্রশ্ন ফের একবার সামনে এল। বিপ্লব দেবের মন্তব্যে বিরোধী দল যেমন আক্রমণাত্মক, তেমনি সাধারণ মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়াও দেখা যাচ্ছে।
গণেশ চতুর্থীর মতো ভক্তিমূলক আসরে রাজনীতি টেনে আনা উচিত ছিল কি না, তা নিয়ে জোর বিতর্ক চলছে। আর বিপ্লব দেবের নাম আবারও সংবাদ শিরোনামে উঠে এল তার অপ্রত্যাশিত মন্তব্যের জেরেই।