খবরে প্রতিবাদ

খবরে প্রতিবাদ

Saturday, 30 August 2025 - 12:21 PM
শনিবার, ৩০ আগস্ট ২০২৫ - ১২:২১ অপরাহ্ণ

BIshalgarh Biplab Kumar Deb : যে কোনো মঞ্চে সর্বক্ষণ সিপিআইএমের আলোচনায় ব্যস্ত বিপ্লব কুমার দেব

BIshalgarh Biplab Kumar Deb
1 minute read

BIshalgarh Biplab Kumar Deb : বিপ্লব কুমার দেব যেখানেই যান, যে মঞ্চেই দাঁড়ান, সেখানেই আলোচনার কেন্দ্রে সিপিআইএম।
ত্রিপুরার রাজনীতির অঙ্গনে এক অদ্ভুত আলোচনার জন্ম দিয়েছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ও বর্তমান সাংসদ বিপ্লব কুমার দেব। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে আক্রমণ করা স্বাভাবিক রাজনৈতিক সংস্কৃতিরই অংশ। তবে বিপ্লববাবুর প্রতিটি বক্তব্যে, প্রতিটি মঞ্চে এবং প্রায় প্রতিটি কর্মসূচিতে যে একটাই নাম উচ্চারিত হচ্ছে, তা হলো সিপিআইএম।

সম্প্রতি সিপাহীজলা জেলার বিশালগড়ে বিজেপি মণ্ডলের আয়োজিত গণেশ পূজায় উপস্থিত হন সাংসদ বিপ্লব কুমার দেব। সেখানে ধর্মীয় আবহে যেখানে পূজা-আর্চনা আর ভক্তির পরিবেশ থাকার কথা, সেখানে হঠাৎ করেই রাজনৈতিক রং ছড়িয়ে পড়ে। কারণ, সাংসদ পূজার প্রসঙ্গকে পাশ কাটিয়ে সিপিআইএমকে একের পর এক আক্রমণে ব্যস্ত হয়ে পড়েন।

স্থানীয়দের অনেকেই ব্যঙ্গ করে বলছেন, বিপ্লববাবু নাকি “সিপিআইএম ব্যাধি”-তে আক্রান্ত! যেখানেই যান, যে মঞ্চেই দাঁড়ান, সেখানেই আলোচনার কেন্দ্রে সিপিআইএম। তিনি সমর্থন করুন বা বিরোধিতা করুন— শেষ পর্যন্ত আলোচনার মূল চরিত্রে সিপিআইএমকেই দাঁড় করিয়ে দিচ্ছেন।

এদিন বিপ্লব কুমার দেব তার ভাষনে বলেন, আমি আসলে যেখানেই যাই, সিপিআইএম ভয় পেয়ে যায়। তারা জানে বিজেপি শক্তিশালী, তাই সর্বদা আমাদের রুখতে চায়। আমি সিপিআইএমের ভয়ঙ্কর রাজনীতিকে সামনে আনতে চাই।”

মঞ্চে মাইক হাতে নিয়েই বিপ্লব দেব দীর্ঘ সময় সিপিআইএমকে তুলোধোনা করতে ব্যস্ত থাকেন। শ্রোতাদের অনেকে অবাক হয়ে প্রশ্ন তোলেন— গণেশ পুজোর মঞ্চে কি সত্যিই এত রাজনৈতিক আলোচনা প্রয়োজন ছিল?

বিপ্লব দেবের উপস্থিতি ঘিরে ভক্ত-সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা ও উচ্ছ্বাস থাকলেও, শ্রোতাদের একাংশ এদিন স্পষ্টতই অস্বস্তি প্রকাশ করেন। তাদের মতে, সাংসদের রাজনৈতিক আক্রমণ হয়তো অন্য মঞ্চে প্রাসঙ্গিক হতে পারত, কিন্তু ধর্মীয় পূজার সময় তা অনেকটা বেমানান।

বিপ্লব দেব আসলে প্রতিপক্ষকে ভুলিয়ে রাখতে চান না। তার প্রতিটি মন্তব্যে সিপিআইএম থাকছে কেন্দ্রবিন্দুতে, এবং এর ফলে মানুষ অনিচ্ছাসত্ত্বেও সিপিআইএম নিয়েই ভাবছে। অনেকের মতে, এটি উনার রাজনৈতিক কৌশল— সিপিআইএমকে আক্রমণ করলেও কার্যত দলটিকে জনমানসে বাঁচিয়ে রাখছেন তিনি।

প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালে বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকার গঠনের পর মুখ্যমন্ত্রী হন বিপ্লব দেব। শুরুতে জনগণের মধ্যে ছিল প্রচণ্ড আশাবাদ। কিন্তু খুব দ্রুতই সেই আশার জায়গা দখল করে নেয় বিতর্ক আর সমালোচনা।

প্রথম থেকেই বিপ্লব দেবের বক্তব্য বারবার হাস্যরস ও সমালোচনার জন্ম দেয়। তাঁর দাবি— মহাভারতের যুগে ইন্টারনেট ছিল, কিংবা দুধ খেলে বাচ্চাদের বুদ্ধি বাড়ে— জাতীয় সংবাদমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসে।

চিকিৎসা ব্যবস্থা ও শিক্ষাখাতে উন্নতির বদলে নানা দুর্বলতা সামনে আসে। বিশেষ করে কোভিড-১৯ সময়ে হাসপাতালের অপ্রস্তুতি এবং অক্সিজেন সংকট নিয়ে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন বিপ্লব দেব।

শেষ পর্যন্ত ২০২২ সালে হঠাৎ করেই মুখ্যমন্ত্রীর পদ ছাড়তে বাধ্য হন বিপ্লব দেব। রাজনৈতিক মহলের দাবি— দলের ভিতরকার অসন্তোষ এবং জনগণের ক্রমবর্ধমান ক্ষোভই তাঁর পদত্যাগের মূল কারণ।

তবে আজকের উনার বক্তব্য যেভাবেই দেখা হোক না কেন, একথা স্পষ্ট— বিপ্লব কুমার দেবের রাজনীতির কেন্দ্রে এখনো সিপিআইএম। তিনি শত্রুপক্ষকে দুর্বল করতে চাইছেন, না কি অনিচ্ছাকৃতভাবে তাদের বাঁচিয়ে রাখছেন— সেই বিতর্ক এখন সাধারণ মানুষের মুখে মুখে ঘুরছে।

For All Latest Updates

ভিডিও