খবরে প্রতিবাদ

খবরে প্রতিবাদ

Saturday, 30 August 2025 - 12:22 PM
শনিবার, ৩০ আগস্ট ২০২৫ - ১২:২২ অপরাহ্ণ

Tripura 10323 Case : ত্রিপুরার বহুল আলোচিত ১০,৩২৩ শিক্ষক মামলায় শুনানি শেষ হলেও রায় স্থগিত

Tripura 10323 Case
1 minute read

Tripura 10323 Case : ত্রিপুরা রাজ্যের বহুল আলোচিত ১০,৩২৩ শিক্ষক মামলার চূড়ান্ত শুনানি আজ শেষ হলো হাইকোর্টে। বিচারপতি সব্যসাচী দত্ত পুরকায়স্থের নেতৃত্বাধীন সিঙ্গল বেঞ্চে দীর্ঘ সময় ধরে চলে মামলার শুনানি। তবে রায় ঘোষণা স্থগিত রাখা হয়েছে। আদালত জানিয়েছে, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পরে কজ লিস্টে প্রকাশ করা হবে।

২০১৭ সালের ২৩ ডিসেম্বর রাজ্য সরকার ১০,৩২৩ শিক্ষককে অ্যাড-হক ঘোষণা করে এবং ২০২০ সালের ৩১ মার্চ এক নির্দেশে তাঁদের সবাইকে চাকরি থেকে ছাঁটাই করে। সরকারের দাবি ছিল, তন্ময় নাথ মামলার হাইকোর্ট ও পরে সুপ্রিম কোর্টের রায়ের ভিত্তিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু চাকরিচ্যুত শিক্ষকরা সেই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে নতুন মামলা দায়ের করেন।

আবেদনকারীর পক্ষে স্নাতক শিক্ষক সুভাষ সিনহা, শান্তনু ভট্টাচার্য এবং স্নাতকোত্তর শিক্ষক বিধান দাস আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের পক্ষে আইনজীবী অমৃত লাল সাহা, অভীক সাহা এবং টি.কে. নাইক সওয়াল করেন। বিশেষ করে অমৃত লাল সাহা আদালতে যুক্তি তুলে ধরে জানান, সরকার যে নথি দাখিল করেছে, তাতে তন্ময় নাথ মামলার হাইকোর্ট বা সুপ্রিম কোর্টের কোনো প্রত্যক্ষ নির্দেশের উল্লেখ নেই। চাকরিচ্যুতির নোটিশ আইন অনুযায়ী প্রত্যেক শিক্ষককে আলাদাভাবে দেওয়ার কথা থাকলেও সরকার গণহারে নির্দেশ জারি করেছে। উপরন্তু, তন্ময় নাথ মামলায় সুপ্রিম কোর্টে আপিল করার জন্য সরকারের অনুমোদনপত্র প্রয়োজন ছিল, যা ‘Rules of Executive Business’ অনুযায়ী দাখিল করা হয়নি।

অমৃত লাল সাহা আদালতে আরও দাবি করেন, সংবিধানের ৩১১(২) ধারা অনুযায়ী কোনো সরকারি কর্মচারীকে পূর্ব নোটিশ ছাড়া বরখাস্ত করা যায় না। অথচ এই মামলায় সেই সাংবিধানিক বিধান অমান্য করা হয়েছে। তিনি তৎকালীন প্রধান বিচারপতি দীপক কুমার গুপ্ত এবং বিচারপতি স্বপন চন্দ্র দাসের রায়ের উল্লেখ করেন, যেখানে স্পষ্ট বলা হয়েছিল, রায় ভবিষ্যতে কার্যকর হবে এবং মাত্র ৬০-৬২ জন শিক্ষকের চাকরি বাতিল হবে, যাদের নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন উঠেছিল। ফলে ১০,৩২৩ জনকে একসঙ্গে ছাঁটাই করার কোনো আইনি ভিত্তি নেই।

শিক্ষক নিয়োগ প্রসঙ্গে সাহা জানান, এই নিয়োগ হয়েছিল ১৯৭০ সালের বিধি অনুসারে, যা ২০০১ ও ২০০৭ সালে সামান্য সংশোধিত হয়। সরকারের দাবি মতো ২০০৩ সালের কোনো নীতির ভিত্তিতে নিয়োগ হয়নি। সুতরাং গোড়া থেকেই সরকারের যুক্তি আইনি দিক থেকে শূন্য।

অন্যদিকে, সরকারি পক্ষের হয়ে অ্যাডভোকেট জেনারেল শক্তিময় চক্রবর্তী এবং সরকারি আইনজীবী দীপঙ্কর শর্মা উপস্থিত থাকলেও মূলত দীপঙ্কর শর্মাই যুক্তি উপস্থাপন করেন। তিনি জানান, সুপ্রিম কোর্টের রায় মেনেই সরকার ছাঁটাই করেছে। তবে আদালত পর্যবেক্ষণ করে যে, সরকারের পক্ষে খুব বেশি শক্তিশালী যুক্তি পেশ করা যায়নি।

শুনানি শুরু হয় সকাল ১১টা ২০ মিনিটে। বিচারপতি সব্যসাচী দত্ত পুরকায়স্থ ধৈর্যের সঙ্গে উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনেন এবং মাঝে মাঝে প্রশ্ন ও মন্তব্য করেন। তবে রায় ঘোষণার ক্ষেত্রে তিনি সময় নিয়েছেন।

ত্রিপুরায় এই মামলার গুরুত্ব শুধু আইনি পরিসরে সীমাবদ্ধ নয়, বরং হাজারো পরিবারের জীবিকা এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে। বহু শিক্ষক দীর্ঘদিন ধরে ন্যায়বিচারের আশায় রয়েছেন। চাকরি হারানোর পর তাঁদের আর্থিক অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে। ফলে রাজ্যজুড়ে এখন নজর কেবল আদালতের রায়ের দিকে। এই রায়ের মাধ্যমে ঠিক হবে, বহু বছরের সংগ্রামের ফল কোন দিকে গড়ায়।

For All Latest Updates

ভিডিও