খবরে প্রতিবাদ

খবরে প্রতিবাদ

Wednesday, 11 March 2026 - 05:07 AM
বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬ - ০৫:০৭ পূর্বাহ্ণ

9 Years Old Child Demise : চিকিৎসকের গাফিলতিতে ৯ বছরের অস্মির মৃত্যুতে ক্ষোভে ফুঁসছে ত্রিপুরা

9 Years Old Child Demise
1 minute read

9 Years Old Child Demise : বাইখোড়া প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চিকিৎসকের গাফিলতিকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়াল দক্ষিণ ত্রিপুরার শান্তিরবাজার মহকুমায়। অভিযোগ উঠেছে, চিকিৎসার অবহেলার কারণে মৃত্যু হয়েছে মাত্র ৯ বছরের এক কন্যাশিশুর। মৃতের নাম অস্মি মজুমদার, বাড়ি চরকবাই মধ্যপাড়ায়।

পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার রাত আনুমানিক ১০টা নাগাদ হঠাৎই অসুস্থ হয়ে পড়ে অস্মি। অভিযোগ, কোনো বিষাক্ত পোকা বা প্রাণীর কামড় লেগেছিল তার পায়ে। সঙ্গে সঙ্গে পরিবারের লোকজন শিশুটিকে নিয়ে ছুটে যান বাইখোড়া প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে। তখন ইমার্জেন্সিতে কর্তব্যরত ছিলেন চিকিৎসক রণদীপ ভৌমিক।

অভিযোগ, শিশুর শারীরিক অবস্থার গুরুত্ব অনুধাবন না করে তিনি কেবলমাত্র একটি রক্তপরীক্ষা (WBC Test) করার নির্দেশ দেন। কিন্তু ওই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে রক্ত পরীক্ষার কোনো পরিকাঠামোই নেই। হাসপাতালে ভর্তি না রেখে, মাত্র তিনটি ইনজেকশন দিয়ে অস্মিকে বাড়ি পাঠিয়ে দেন চিকিৎসক।

এখানেই পরিবার অভিযোগ তুলেছে গুরুতর গাফিলতির। কারণ, ওই সময়ই শিশুটিকে শান্তিরবাজার জেলা হাসপাতালে স্থানান্তর করা উচিত ছিল। কিন্তু সেটি করা হয়নি। বাড়িতে ফেরার কিছুক্ষণের মধ্যেই অস্মির শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হতে থাকে। শরীরের রঙ পাল্টে যেতে শুরু করলে পরিবার আবারও শিশুটিকে নিয়ে বাইখোড়া হাসপাতালে ফিরে আসে। তখন চিকিৎসক বাধ্য হন শান্তিরবাজার হাসপাতালে রেফার করতে।

শান্তিরবাজার জেলা হাসপাতালে পরীক্ষার পর জানা যায়, বিষ শিশুর শরীরে ছড়িয়ে পড়েছে। চিকিৎসকরা দ্রুত ব্যবস্থা নিলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা যায়নি। পরবর্তীতে এনটি ব্যানাম ইনজেকশন দিয়ে জিবি হাসপাতালে পাঠানো হয় শিশুটিকে। কিন্তু সেখানে পৌঁছানোর আগেই মৃত্যু হয় অস্মির।

ঘটনার পর থেকেই ক্ষোভে ফুঁসছে গ্রামবাসী ও মৃত শিশুর পরিবার। তাঁদের অভিযোগ, দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে চিকিৎসক রণদীপ ভৌমিকের অবহেলায় হাসপাতালের সামগ্রিক পরিষেবা ভেঙে পড়েছে। শুধু তাই নয়, হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন। রোগীদের সঙ্গে নার্সদের দুর্ব্যবহারের অভিযোগও নতুন নয়।

অভিযোগের তীর উঠছে মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক জ্যোতির্ময় দাসের বিরুদ্ধেও। নিয়ম অনুযায়ী তাঁর সদর দপ্তর বিলোনিয়ায় হলেও, তিনি বাইখোড়া হাসপাতালের কোয়ার্টারেই অবস্থান করছেন। অথচ হাসপাতালের দুরাবস্থা দূর করতে তেমন কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি।

এই ঘটনার পর স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “একটি ছোট্ট প্রাণকে বাঁচানো যেত যদি সময়মতো সঠিক চিকিৎসা দেওয়া হতো। কিন্তু চিকিৎসকের গাফিলতির কারণে অকালে চলে গেল একটি শিশু।”

বর্তমানে মৃত শিশুর পরিবারের দাবি, অভিযুক্ত চিকিৎসকের বিরুদ্ধে দ্রুত কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হোক এবং স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সার্বিক অবস্থা সংস্কার করা হোক। এদিকে, ঘটনার তদন্তে স্বাস্থ্য দপ্তর কী পদক্ষেপ নেয়, এখন তাকিয়ে রয়েছে সাধারণ মানুষ।

For All Latest Updates

ভিডিও